কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন এখন পরিত্যক্ত

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন এখন পরিত্যক্ত। ২০২৫/২৬ অর্থবছরে পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে বরাদ্দ এলেও, তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল বারী টুটুল প্রভাব খাটিয়ে জনাকীর্ণ এলাকা থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে নিজের গ্রামে জমি কেনেন। ২০১৬ সালে ‘বসুন্ধরা এন্টারপ্রাইজ’ ৯৭ লাখ ২৭ হাজার ১৩৮ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ শেষ করে। কিন্তু নির্মাণে অনিয়ম ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির অভিযোগে নতুন চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন ভবনটি বুঝে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

ফলে ৯ বছরেও খোলেনি তালা, চুরি হয়েছে যন্ত্রাংশ, খসে পড়ছে টালি। বর্তমান পরিষদ পুরাতন ভবন থেকেই সেবা দিচ্ছে, যা জনাকীর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসীর কাছে সুবিধাজনক। ব্যক্তিস্বার্থে ভবন নির্মাণ ও অব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রায় ১ কোটি টাকা এখন গচ্চা যাচ্ছে। এসব বিষয়ে  স্থানীয় ব্যাক্তি এবং সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলনের অভিযোগ এখানে নিজের সুবিধা এবং অর্থনৈতিক লাভের জন্য আওয়ামাীলীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাড়ী টুটুল নিজ এলাকায় এই ভবন নির্মান করার জন্য এলাকাবাসীর কাছ থেকে চাদা আদায় করে জমি কেনেন।

এবং তার একক প্রভাবে এরকম অনিরাপদ একটি জায়গায় কমপ্লেক্স ভবন নির্মান করেন। যে ভবনের নির্মান কাজে অনেক ট্রুটি থাকায় তিনি সেটিকে বুঝে নিতে অস্বিীকার করেন। আর সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় হওয়ায় ঝুকির কথা মাথায় রেখে এবং জনগনের সুবিধার কথা ভেবে পরের কোন চেয়ারম্যানও  এই ভবন টি কাজে লাগানোর ইচ্ছে পোষন না করায় এটি এখন পরিত্যাক্ত প্রায়। তাদের দাবী চেয়ারম্যান টুটুলের স্বদিচ্ছা থাকলে পুরোনো ভবন সংস্কার করেই এখানে কাজ চালানো সম্ভব ছিলো।

প্রধান জনবহুল এলাকা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ব্যাক্তি স্বার্থে তৎকালিন চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে সংস্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিজ গ্রামে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের কমপ্লেক্স ভবন। কিন্তু সন্ত্রাস কবলীত দুর্গম এলাকায় হওয়ায় নির্মানের ৯ বছর পার হয়ে গেলেও একদিনের জন্যও খোলা হয়নি ভবনের তালা, হয়নি কোন দাপ্তরিক কার্যক্রম। এলাকাবাসীদের অভিযোগ বর্তমানে পরিত্যাক্ত প্রায় এই আধুনিক কমপ্লেক্স ভবনটি রাতে মাদক সেবনকারীদের আর দিনে বখাটে যুবক আর গরু ছাগলের আশ্রয়স্থান। এতদিনেও এবিষয়ে নির্বাক সংস্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

দৃষ্টি আকর্ষন করলে দেয়া হলো ব্যাবস্থা নেওয়ার আশ্বাস। এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা বলছে কারো প্রভাবে নয়, সব নিয়ম মেনেই সেখানে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মান করা হয়। তবে ও ওই এলাকায় নিরাপত্তা জনিত সমস্যা আছে এটাও সত্য। আর এতদিনে কেনে এই ভবনটিকে ব্যাবহার করা হয়নি বা নিরাপত্তা ব্যাবস্থা বা অনিয়মের  এবিষয়গুলো তখন কেনো ভেবে দেখা হলো না এনিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়।

তাই সেসময় এসব বিষয়ে কেন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি সেটি খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা। জহীর মেহেদী হাসান, সদ্য সাবেক প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, মিরপুর, কুষ্টিয়া। সংস্লিষ্টদের গাফিলতি আর প্রভাবশালী নেতাদের ঠেলাঠেলির কারনে সরকারের গচ্ছা প্রায় ১কোটি টাকা। আর নতুন ভবন থাকতেও জীবনের ঝুকি নিয়ে জরাজীর্ণ  ঝুকিপূর্ন ভবনে এসে নাগরিক সেবা নিচ্ছেন এই ইউনিয়নের প্রায় ১৩ হাজার মানুষ।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর