বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীকে নিয়ে দেওয়া ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট এস এম শাতিল মাহমুদ। এছাড়া উক্ত বক্তব্যের প্রতিবাদে ভেড়ামারায় সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীকে নিয়ে মন্তব্য করা একটি ভিডিও, এতে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেছেন, সরকারি দলের নেতারা এসে বলে সব আমার ওমুক বাপরা করে দিচ্ছে। মিরপুর-ভেড়ামারায় কাজ হবে এমপি আব্দুল গফুরের মাধ্যমে, অন্য কারো মাধ্যমে না। এরা যা বলে ১শো ভাগ মিথ্যা। সেদিন এক নেতা বলছে ২শো রাস্তা রাগিব রউফ চৌধুরী পাশ করেছে। রাগিব চৌধুরীর বাপের টাকা নাকি? সে কি জনপ্রতিনিধি? সে যদি এতোই পাড়ে তাহলে সংসদে আমার যে চেয়ার আছে সেই চেয়ারটাই বসুক, সংসদে গিয়ে কথা বলুক। এসব ফাউ কথা বলে লাভ নেই। ভিডিওতে দেখা যায় মিরপুর উপজেলার কুর্শা এলাকায় গিয়ে এসব মন্তব্য করেন এমপি আব্দুল গফুর। তার এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক নেতাকর্মী বিভিন্ন ভাবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
এদিকে উক্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে, গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট এস এম শাতিল মাহমুদ তার নিজ কার্যালয়ে বলেন, এমপি আব্দুল গফুরের আচরন একজন ইউপি মেম্বারের কোয়ালিটি। অযোগ্য ব্যক্তির হাতে যোগ্য কিছু পড়লে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা সম্ভব না।
এ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ বলেন, আমরা সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে যে ভিডিও দেখলাম একজন এমপির ভাষা এ ধরনের হতে পারে না। উনার বক্তব্যে প্রমানিত হয় উনি আমাদের ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন বিএনপি নেতার থেকেও অযোগ্য। এমপি আব্দুল গফুরের মনে রাখা উচিৎ সরকারি দল ছাড়া কোন নির্বাচনি এলাকায় স্পেশাল বরাদ্দ নেওয়া সম্ভব না। আব্দুল গফুর ভূলে গেছেন উনি একজন বিরোধী দলের এমপি। যিনি বিএনপির কিছু বিশ্বাস ঘাতকদের কারনে এমপি হয়েছেন। উনার মধ্যে কোন পরিপক্ষতা আসেনি, স্পেশাল বরাদ্দ সরকারি দলের লোক ধরে আসে, আর জেনারেল বরাদ্দ ওইটা সব এমপিদের মাধ্যমে আসে। উনি এই সত্যটাকে মানতে না পেরে, উনার অজ্ঞাতনামা পোষতো, জ্ঞানের অভাবে সরকার এবং বিরোধী দলের এমপিদের কোয়ালিটি কতটা বিস্তর তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়। উনাকেও মনে রাখতে হবে কোন বরাদ্দ কারো বাবার বরাদ্দ না। বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায়, যেহেতু ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য উনি এলাকার উন্নয়ন করতেই পারেন। এ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ বলেন, এমপি আব্দুল গফুর ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে জেলার ভেড়ামারা উপজেলাতে কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুল গফুরের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলটি ভেড়ামারা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে শহরের বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীকে নিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের দেওয়া কথিত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উক্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সিনিয়র আইনজীবীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধের পরিপন্থী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। বক্তারা এ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।









