কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কলেজ বন্ধ করে চলছে পশুহাট

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ঘড়ির কাটায় দুপুর একটা বাজে। কক্ষ গুলোর দরজায় ঝুলছে তালা। নেই পতাকাও। আর কলেজের ভবন ঘেঁষে পুতা রয়েছে অসংখ্য বাঁশের খুঁটি। তাতে বাঁধা রয়েছে ছোট – বড় গরু – ছাগল। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন ক্রেতা – বিক্রেতা। চলছে বেঁচাকেনাও। গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরেজমিন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা ও কার্যক্রম চলার কথা।

 

এসময় মুঠোফোনে কলেজটির অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বলেন, ‘ প্রতি রোববার পেঁয়াজ এবং মঙ্গলবার পশুর হাট বসে। তবে রোববারের বদলে শনিবার কলেজ খোলা থাকে। আর মঙ্গলবার একটা পর্যন্ত কলেজ খোলা থাকে। একটার পরে চলে পশুহাট।’ তার ভাষ্য, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলেজ চলার কথা। কিন্তু হাটের জন্য হচ্ছেনা। আপনারা ব্যবস্থা নেন।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতি রোববার চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয় মাঠে বসে সপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট এবং প্রতি মঙ্গলবার বসে পশুর হাট। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চললেও এই দুইদিন কলেজটির সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে ক্ষুব্ধ এলাকবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

 

জানা গেছে, দুই হাজার সালে প্রতিষ্ঠিত চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে ৪৮ জন এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের বিপরীতে শিক্ষক – কর্মচারীর সংখ্যা অন্তত ৩০ জন। স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত কুরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে তিনমাসের অস্থায়ী পশুহাটের অনুমোদন দেন প্রশাসন। গত ৩ আগষ্ট হাটের মেয়াদ শেষ হলেও কলেজ মাঠে চলছে পশুহাট। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। কলেজমাঠে বাঁশ – খুঁটি থাকায় স্থানীয় যুবসমাজ বঞ্চিত হচ্ছেন খেলাধূলা থেকে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, আগে বিকেল হলেই প্রতিদিন ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানান খেলাধূলা হতো। প্রায় সাত মাস ধরে মাঠে গরুর হাট বসায় খেলাধূলা বন্ধ। দ্রুত কলেজ মাঠ থেকে হাটটি অপসারণের দাবি জানান তিনি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজের ভবন ঘেঁষে হাটের বাঁশ – খুঁটি। হাটের দিন পাঠদান হয়না ঠিকঠাকভাবে। অন্যান্য কলেজে মতো এখানে মানসম্মত পরিবেশ নেই। দ্রুত কলেজ থেকে হাট তুলে দেওয়ার দাবি তাঁদের।

 

চৌরঙ্গী পশুহাটের সাধারণ সম্পাদক আলম বিশ্বাস বলেন, একটা বাজলে এমনিতেই আর কলেজ চলেনা। হাটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। হাটের জন্য কলেজের পাশেই জমিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই হাটটি কলেজমাঠ থেকে সরানো হবে।

 

বিকেল চারটার আগেই কলেজ বন্ধ করার কোনো সরকারি নিয়ম নেই। এটি গুরুতর অপরাধ বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক। তিনি বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ করলে কিংবা সরেজমিন গিয়ে এমন অনিয়মের প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে অবশ্যয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর