বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি অভিযানকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ থাকলেও মামলায় কম পরিমাণ দেখানো, আসামি ছেড়ে দেওয়া এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ডিবির এসআই জনি ও তার কথিত সোর্স আমিরুল ও জুলুকে নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আমিরুল একসময় ধান-চালের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরে লোকসানের মুখে পড়ে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ডিবি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং এ সুযোগে তার কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। তার সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আইলচারা ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি জুলু । গত সোমবার দিবাগত রাতে আমিরুলের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে ও জুলুসহ মোট ৫ জনকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় প্রায় ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে মামলার এজাহারে মাত্র ৬০ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বটতল কবুর হাট এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে আমিরুল, জুলু ও ৫টি মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে না পারায় মিলন মোল্লা, আমিন উদ্দিন ও পবন নামে তিনজনকে আসামি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির এসআই জনি। তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের ধরতে অনেক সময় তথ্যদাতার সহায়তা নিতে হয়। আমিরুল আমাদের সোর্স হিসেবে কাজ করেছেন। বিধি অনুযায়ী মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সোর্স হিসাবে কাজ করলে তার মুচিকা নিয়ে কেন ছাড়তে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি চুপ থাকেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজমল হুদা বলেন, অভিযানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাব দিতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
