অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় বদলি করা হলেও যোগদানের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১৩ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এরপরও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে বদলির আদেশ ঠেকাতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও তদবিরের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া পৌরসভায় দায়িত্ব পালনকালে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঠিকাদারি বিল পরিশোধ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নথিপত্র ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা নিয়ে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, দায়িত্বকালীন বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এক অফিস আদেশে মেহেদী হাসানকে কুষ্টিয়া পৌরসভা থেকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা পদে বদলি করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় ১ অক্টোবর থেকে কুষ্টিয়া পৌরসভা থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৩ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত যোগদানের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। ফলে সরকারি বদলির আদেশ বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করার বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশের স্মারক নম্বর ৪৬.০০.০০০০.০০০.০৬৩.২৭.০০৩৬.২২-৪৮২। আদেশে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ড. শহীদ মোস্তফা। এতে ভেদরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা পদটি শূন্য উল্লেখ করে মেহেদী হাসানকে সেখানে বদলি করা হয়।
এ ছাড়া একই আদেশে মেহেদী হাসানের বকেয়া বেতনসহ পিএফ ও জিএফ হিসাবে প্রাপ্য পাওনাদি বদলিকৃত কর্মস্থলে স্থানান্তর নিশ্চিত করতে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
কুষ্টিয়া পৌরসভায় দায়িত্ব পালনকালে মেহেদী হাসানের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঠিকাদারি কার্যক্রম ও বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁদের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং উন্নয়নকাজের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তাঁর দায়িত্বকালীন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, দরপত্র, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, অর্থ ছাড়ের নথি এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা জরুরি।
পৌরসভার কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁদের মতে, আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনার শুদ্ধতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মেহেদী হাসানের দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি পৌরসভার সামগ্রিক কার্যক্রমের দুর্বলতাও চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।
মেহেদী হাসানের বদলির আদেশ জারির পর সেটি ঠেকাতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও তদবিরের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক মিজানুর রহমান অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পৌরসভার কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, পৌরসভার অর্থ ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।
মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় যোগদানসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।








