রঞ্জুউর রহমান ॥ কন্যাশিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।
তিনি বলেন, “এখনো আমরা কন্যাশিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় উপযুক্ত পরিবেশ পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারিনি। কন্যাশিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে।”
গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—“শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়”।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কালেক্টরেট চত্বর প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। কন্যাশিশুরা ভবিষ্যতে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় কতটা সচেতন ও সম্পৃক্ত হবে, সে বিষয়টি এখন থেকেই গুরুত্ব দিয়ে ভাবা প্রয়োজন। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে রাজনীতি ও নেতৃত্বের বিষয়ে কন্যাশিশুদের সচেতন করে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নারীরা শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে সাফল্য অর্জন করছেন। নারীদের এই অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি নারীর সম্মান, মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মোহাম্মদ হাসান ইমাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মোঃ ইউনুছ আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরে সফুরা ফেরদৌস।
এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে কন্যাশিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজে নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।









