কুমারখালী প্রতিনিধি ॥কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে পড়ল পহেলা বৈশাখের উন্মাদনা। তবে এই আয়োজন কোনো সাধারণ নাগরিক উৎসব ছিল না; এটি ছিল মাটির মানুষদের নিজস্ব উৎসব। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বহলবাড়িয়া এলাকায় শতাধিক কৃষক-কৃষানির অংশগ্রহণে ধুমধাম করে পালিত হলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সারা বাংলা কৃষক সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি রূপ নিয়েছিল কৃষিজীবী মানুষের মিলনমেলায়।
দুপুর থেকেই বৈশাখী সাজে সজ্জিত হয়ে জড়ো হতে থাকেন কৃষাণ-কৃষাণিরা। কারো হাতে ছিল রঙিন মুখোশ, কারো হাতে কৃষির জয়গান লেখা প্ল্যাকার্ড। চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে তারা এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ঢাক-ঢোলের তালে তালে কৃষকদের এই পদযাত্রা পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। উৎসবের আমেজ থাকলেও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে কৃষির আধুনিকায়ন। নববর্ষ উপলক্ষে কৃষির বিভিন্ন উপকরণ ও চাষাবাদের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উৎসব কৃষকদের কেবল আনন্দই দেয় না, বরং নতুন উদ্যমে মাঠে ফেরার প্রেরণা যোগায়। কৃষকদের মেধা ও শ্রমকে সম্মানের সাথে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- সারা বাংলা কৃষক সোসাইটির সভাপতি রিতা ব্রম্ম, মাঠ সমন্বয়কারী ও মনিটরিং ইভ্যালুয়েশন কর্মকর্তা মো. আবু হানিফ, আঞ্চলিক প্রকল্প সমন্বয়কারী এস এম রঞ্জু। এসময় বক্তারা বলেন, “কৃষি আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কৃষকের ঘরে নতুন ধান আর নতুন বছর যখন এক হয়ে যায়, তখনই উৎসব পূর্ণতা পায়। এই উদ্যোগ প্রান্তিক কৃষকদের মনোবল কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।” অনুষ্ঠান শেষ হয় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গ্রামীণ লোকসংগীত ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
