দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ময়রামপুর নতুন পাকুড়িয়া এলাকায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের দোকানের শাটারে লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন হোসেন (৩০) নামে এক যুবক একটি দোকানের সামনে এসে কোমর থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন। এরপর সেটি লোড করে দোকানের বন্ধ শাটারে কয়েকবার লাথি মারেন। এ সময় দোকানে কাঙিক্ষত ব্যক্তিকে না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এমন আচরণ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। রিপন হোসেন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ময়রামপুর নতুন পাকুড়িয়া এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপনের বড় ভাই সোহেল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে সোহেলের স্ত্রী নাছরিন খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার রিপনের চাচাতো বোনের ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি শামীম হোসেন (৩২) এর কথিত পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার পর শামীম নাছরিনকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলে আসছিল। সম্প্রতি সোহেল প্রবাস থেকে বাড়িতে ফিরলে পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে রিপন হোসেন অস্ত্র হাতে শামীমকে মারার উদ্যেশ্যে তার দোকানের সামনে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর অস্ত্র হাতে যুবকের দোকানের শাটারে লাথি মারার চার মিনিট ৫১ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ভিডিওতে অস্ত্র হাতে একটি ছেলেকে শাটারে লাথি মারতে দেখা গেছে। তবে সেটি আসলেই আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে। দোষীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে রিপন হোসেন পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









