কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে অসহায় নারীর দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ গোড়ের পাড়া গ্রামে এক অসহায় নারীর মুদিখানা ও চায়ের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতাসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দোকানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন ভুক্তভোগী রাশেদা বেগম। রাশেদা বেগমের অভিযোগ, হোসেনাবাদ গোড়ের গ্রামের জানু সরদারের ছেলে কামাল, ইউসুফের ছেলে বাবু এবং আমেজের ছেলে আব্দুলসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তার মুদিখানা ও চায়ের দোকানটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেন।

অভিযুক্তদের স্থানীয় প্রভাবের কারণে তিনি প্রতিবাদ করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। রাশেদা বেগম বলেন, “দোকানটিই ছিল আমার পরিবারের আয়ের প্রধান অবলম্বন। দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমি চাই, আমার দোকানটি খুলে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হোক এবং যারা দোকান বন্ধ করে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” তিনি জানান, দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিকার পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে অভিযুক্ত কামালের মুঠোফোনেও একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত আব্দুলের সঙ্গে সরাসরি কথা হলে তিনি বলেন, “বাবুকে মেরেছে বলেই দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।” তবে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে সাহস পান না।

প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের দাবি, স্থানীয় প্রভাবের কারণে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী রাশেদা বেগম তার দোকানটি পুনরায় খুলে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করার সুযোগ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবষিয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খালেদুর রহমান জানান, দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি , তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর