মিরপুর প্রতিনিধি ॥ জাতীয় পর্যায়ের সাঁতার প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্য অর্জন করে কুষ্টিয়ার মুখ উজ্জ্বল করেছেন মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের মেয়ে জুঁই আক্তার। ম্যাক্স গ্রুপ ৩৫তম জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটারপোলো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১০টি স্বর্ণপদকসহ মোট ১২টি পদক জিতেছেন তিনি। অসাধারণ এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশসেরা সাঁতারু নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি স্কুটি মোটরসাইকেল।
জুঁই আক্তার সদরপুর গ্রামের সাইফুলের মেয়ে। তাঁর সাঁতারজীবনের শুরু নিজ এলাকার আমলা সাগরখালী সুইমিং ক্লাবে। সেখানেই সাঁতারের হাতেখড়ি। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া সেই পথচলা একসময় তাঁকে নিয়ে যায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপিতে। সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের দক্ষতা আরও শাণিত করেন তিনি। বিকেএসপির সাবেক এই শিক্ষার্থী বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মরত।
সাঁতারের প্রতি আগ্রহ, নিয়মিত অনুশীলন আর কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলেছে জাতীয় পর্যায়ে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১০টি স্বর্ণসহ ১২টি পদক জয় তাঁর ক্রীড়াজীবনের বড় অর্জন। একই প্রতিযোগিতায় দেশসেরা সাঁতারু হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
একসময় যে মেয়েটির সাঁতারের পথচলা শুরু হয়েছিল আমলা সাগরখালী সুইমিং ক্লাবে, সেই জুঁই এখন জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত সদরপুরসহ পুরো মিরপুরের মানুষ। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে সাঁতারচর্চার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের কাছে জুঁই এখন অনুপ্রেরণার নাম।
জুঁই আক্তারকে ঘিরে এখন পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীরও অনেক প্রত্যাশা। জাতীয় পর্যায়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি—এমনটাই আশা তাঁদের। দেশের হয়ে আরও পদক জিতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখছেন এই কৃতী সাঁতারুকে ঘিরে তাঁর নিজ এলাকার মানুষ।









