বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন হলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী মেটাল এক্সপো বাংলাদেশ-২০২৬। স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এসবিএম) ও লিমরা এক্সিবিশনসের যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জওহর রিজভী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সরকার স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লিমরা এক্সিবিশনসের পরিচালক কাজী ছারোয়ার উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।
এসময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মেটাল ও স্টিলশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পকারখানা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণেরও সুযোগ তৈরি হবে। এ ধরনের প্রদর্শনী শিল্পোদ্যোক্তা, উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া সরকার স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমরা জানি ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে কোন ভাবেই ফোকাস করতে পারিনি। আমাদের দেশে ৭০টির বেশি স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স কোম্পানি আছে। আমাদের সক্ষমতা আছে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এক্সপোর্ট করা। কিছু জটিলতার কারনে আমরা সেই সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারছি না। কিছু বিষয় আছে যেমন পদ্মা সেতু কিছুদিন আগে হয়েছে, এর সুবিধা কারা নেয়, দেশের বড় বড় শিল্প গোষ্ঠী আছে। এতে আমলা তান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে এবং কিছু লোক সেখানে বসে আছে তারা দেশের এই ইন্ডাস্ট্রিকে কোন ভাবেই উপরে উঠতে দিতে চাই না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্টিল ও মেটালশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনের মানোন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শিল্প খাতের বিকাশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
জাকির হোসেন সরকার আরও বলেন, দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করতে হলে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
আয়োজকেরা জানান, দেশের মেটাল ও স্টিলশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়াতে এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হবে।









