বিশেষ প্রতিনিধি ॥ উৎসবমুখর পরিবেশ, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিউরন নার্সিং কোচিং সেন্টার কুষ্টিয়া শাখায় নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে।
নবীন বরণকে কেন্দ্র করে পুরো কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি সাজানো হয় রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, ফুল এবং আলোকসজ্জায়। প্রধান ফটকে তৈরি করা হয়েছিল আকর্ষণীয় তোরণ। সকাল থেকেই নবীন শিক্ষার্থী ও পুরোনো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। নতুনদের বরণ করে নিতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা গেটে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। নির্ধারিত সময়ে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।
নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টার কুষ্টিয়া শাখার পরিচালক বশির আহম্মেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, নিউরন পাবলিকেশন, বাংলাদেশ নার্সিং কলেজ ও চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, নিউরন নার্সিং কোচিং এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, নিউরন পাবলিকেশনের লেখক ও সম্পাদক এইস আল হাসিব, ইলেকট্রিক মিডিয়া সিটিসি নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক নুর আলম দুলাল প্রমুখ। বশির আহম্মেদের সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় অতিথিরা ও শিক্ষকমণ্ডলী নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিউরন পাবলিকেশন, বাংলাদেশ নার্সিং কলেজ ও চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, নিউরন কোর্চিং এন্ড পাবলিকেশন শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, দরিদ্র, অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামুল্যে কোর্চিং করিয়ে থাকে। এখানার লভ্যাংশের টাকা অসহায় দরিদ্র, অসুস্থ্য মানুষের কল্যাণেও ব্যায় করা হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, একজন দক্ষ নার্স হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে হলে নিউরন যা যা প্রয়োজন তাই ছাত্র-ছাত্রীদের শিখিয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় সকল সরকারী, বে-সরকারী চিকিৎসা প্রতিষ্টানে দক্ষ নার্সের অধিকাংশই নিউরোন থেকে কোর্চিং করেছে। এখানে রয়েছে সঠিক শিঠ বিতরণ, নিয়মিত ক্লাস, দক্ষ শিক্ষক এবং সঠিক গাইড লাইন যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের অধ্যায়নের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি কুষ্টিয়া শাখার পরিচালক বশির আহম্মেদের দক্ষতায় কুষ্টিয়া শাখাটিও ধিরে ধিরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। তিনি কপি রাইটের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশে আনাচে-কানাচে অনেক নামে-বেনামে নিউরনের নামে নার্সিং কোচির্ং চালু করা হয়েছে। যে গুলো আমাদের পরিচালিত নয়। তাদের পঠিত বই, গাইড কোন কিছুই আমাদের না। তারা শুধু মাত্র জাল করে আমাদের নামটি ব্যবহার করছে। ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় প্রশাসনের সাহায্যে আমার দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আগামীতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে তিনি হুসিয়াারি দেন। সভায় অন্যান্য বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়কে কাজে লাগিয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, নবীন শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নবীনদের উদ্দেশে বলেন, কেবল পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করা নয়; বরং নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমেই নিজেদের আদর্শ মানুষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠান পরিচালক বশির আহম্মেদ বলেন,স্বপ্ন যদি বড় হয়, দূরত্ব কখনো বাধা হতে পারে না! এ শিক্ষায় দিয়েছে আবৃতি আক্তার নয়ন।নার্সিংয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে শত শত মাইল দূরের নীলফামারী থেকে কুষ্টিয়ায় এসে আজ ভর্তি হয়েছে নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং, কুষ্টিয়া শাখায়। দূরত্ব পেরিয়ে একজন শিক্ষার্থী যখন আমাদের ওপর আস্থা রেখে নিজের স্বপ্নের প্রস্তুতির জন্য কুষ্টিয়ায় আসে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।ইনশাআল্লাহ, নিয়মিত ক্লাস, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তার নার্সিংয়ের স্বপ্ন পূরণের পথে নিউরন থাকবে পাশে। তোমার স্বপ্নও যদি নার্সিং হয় তাহলে প্রস্তুতি হোক সঠিক জায়গায়, সঠিক দিকনির্দেশনায়। দূরত্ব নয়, লক্ষ্যই হোক পরিচয়। স্বপ্ন যেখানে নার্সিং, প্রস্তুুতি সেখানেই নিউরন। আজকের ভর্তির গল্পটা সত্যিই আমাদের জন্য এক বিশেষ শিক্ষানীয় অধ্যয়। আলোচনা পর্ব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নিউরন নার্সিং কোচিং এর শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় গান, নাচ ও নাটিকা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার প্যাকেট, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে নবীনদের বরণ করার মধ্য দিয়ে একটি স্মরণীয় দিন অতিবাহিত হয়।









