বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে জেলা পুলিশ। এ উপলক্ষে বিশেষ কল্যাণ সভা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
গতকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করতে এ দিবসের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মো: শাহজালাল, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সকাল সাড়ে ১১টায় পুলিশ লাইন্সের সভাকক্ষে জেলা পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। সভায় তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল চেতনা হলো জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক সহযোগিতা। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত, দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
দুপুর দেড়টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স মেসে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত কর্মকর্তা, সিভিল স্টাফ ও পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণে বিশেষ প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। প্রীতিভোজ শুরুর আগে তিনি খাবারের মেনু, পরিবেশনের প্রস্তুতি ও গুণগত মান পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি সার্বিক ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিবসটি উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সের পাশাপাশি জেলার সব থানা, তদন্তকেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্পেও একযোগে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মো. হাসান ইমাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার, ডিআইও-১, ডিএসবি, রিজার্ভ ইন্সপেক্টর (আরআই), পুলিশ লাইন্স, জেলার সব থানার অফিসার ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।









