কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

গড়াইয়ে ৪ বছর পর নৌকাবাইচ:উৎসবে মাতল কুষ্টিয়া

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় গড়াই নদের ঘোড়াইঘাটে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার সাতটি দল অংশ নেয়। কয়েক হাজার মানুষ নদীর দু পাড়ে দাঁড়িয়ে এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। দীর্ঘ চার বছর বিরতির পর গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাঝিদের হেইও রে হেইও বোল আর দাঁড়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখর হয়ে ওঠে গড়াই নদের দুই পাড়। উৎসবমুখর পরিবেশে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধক ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়ায়-১আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা ও বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান হোসেন ইউনুস ও পরিচালনা করেন দি কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ফুহাদ রেজা ফাহিম। সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মসলেম উদ্দিন। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি, কুমারখালি উপজেলা যুবদলের আহবায়ক অ্যাডভোকেট জাকারিয়া আনছার মিলন, কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মালিথা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ প্রমূখ। এসময় বক্তারা বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের হাজার বছরের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক লোকজ ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। সেই জায়গায় এমন একটি আয়োজন আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে। আজকের এই আয়োজনে গড়াই নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, আমাদের মানুষ এখনো বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রতি গভীরভাবে আগ্রহী। প্রথম দিনের প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৭টি নৌকা বাইচ দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা দেখতে গড়াই নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। নদীর পাড়জুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। ছোট-বড় নানা আকারের নৌকা নিয়ে প্রতিযোগীরা হেইও রে হেইও বোল আর দাঁড়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে নদীর বুকে ছুটে চলেন। বৈঠার ছন্দে নৌকার গতি আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়। স্থানীয় বয়জেষ্ঠরা জানান, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্যবাহী আয়োজন হারিয়ে যেতে বসেছে। এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও নৌকা বাইচের ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব।

আয়োজক কমিটির আহবায়ক ইমরান হোসেন ইউনুস জানান, তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন পর্যায়ে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ঘোড়াইঘাট ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। তিনি আরো বলেন, যে কোন খেলা যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে লক্ষ্যে শুধু নৌকা বাইচ নয়, পাশাপাশি এলাকায় ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজন করা হবে। মাদকসহ নানা অপরাধ মূলক কাজ থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতেই তারা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন বলে জানান তিনি।

খেলায় অংশ নেওয়া মাঝিরা বলেন, গত ২০২২ সালে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল এই নদীতে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই নৌকা বাইচের আয়োজন ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ উদ্দীপনা। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ দল বেঁধে ভিড় করেছেন নদীর দুই পাড়ে। এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমরা খুশি। মাঝিরা আরো বলেন, প্রতি বছর এ খেলার আয়োজন করা হলে খেলার ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব। তবে আগামী রবিবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই প্রতিযোগিতা। অংশগ্রহণকারীরা পুরস্কার হিসেবে পাবেন মোটরসাইকেল ফ্রিজ ও টেলিভিশন।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর