সবুজ আলী, খোকসা ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা বাজারে একটি ব্যাটারি ও পার্টসের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে খোকসা বাজারের ‘ইমরান ব্যাটারী এন্ড পার্টস হাউজ’ নামের পাখিভ্যানের ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশের দোকানসহ পাশের একটি লেপ-তোষকের দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এতে দুটি দোকানের মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইমরান ব্যাটারী এন্ড পার্টস হাউজের মালিক মো. ইউনুস আলী (৪৫)। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাটলাগাড়ি গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। তিনি খোকসা থানাপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকেন। জানা যায়, রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে দোকানের নাইট গার্ড মো. আলাউদ্দিন দোকানটিতে আগুন দেখতে পান। আগুন দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত ডাক-চিৎকার শুরু করেন এবং স্থানীয়দের বিষয়টি জানান।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রশোন আলীর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও খোকসা থানা পুলিশের সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন। প্রায় ৫০ মিনিটের চেষ্টায় রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক ইউনুস আলী বলেন, “রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আমার দোকানে আগুন লাগে।
ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। দোকানে থাকা ব্যাটারি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতাম। সেই টাকা জমিয়েছিলাম। জমির লিজ দেওয়ার টাকা দিয়ে আমি দোকানে সবকিছু কিনেছিলাম। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এখন আমি কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।” এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পার্শ্ববর্তী লেপ-তোষকের দোকানের সোহেল বলেন, “রাতে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি দোকানে এসে আগুন নেভানোর কাজে শুরু করি। আমার দোকানের এক থেকে দেড় লাখ টাকার কাপড় পুড়ে গেছে এবং অনেক মালামাল ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” পার্শ্ববর্তী দোকানদার রকি বলেন, “গভীর রাতে আগুনের ঘটনা ঘটে। দোকানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যেতে পারে।” ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে মোট দুটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি দোকানে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অপর একটি দোকানে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া একটি দোকান থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অপর দোকান থেকে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় আশপাশের অন্যান্য দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়। এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালিদ বিন মনসুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি। খবর পেয়ে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছি। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।









