সবুজ আলী, খোকসা ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, খোকসা জোনাল অফিসের এজিএমের দুর্ব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। গতকাল সোমবার (২২ জুন) সকাল ১১টার দিকে খোকসা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে “খোকসার সর্বস্তরের জনগণ” ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ বা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত সমাধান দাবি করেন।
আন্দোলনকারী মোতালেব হোসেন বলেন, “গত কয়েক মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল হিসেবে আমি প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু এবার এক মাসের বিলই ১ হাজার ৬০০ টাকার বেশি এসেছে। এত বিল কীভাবে হলো, তার জবাব দিতে হবে।” এ সময় আরও বক্তব্য দেন দরকার, সুমন, বাচ্চু, ফাইজুল, ব্যবসায়ী মিন্টুসহ অনেকে। মানববন্ধনের কারণে কিছু সময়ের জন্য খোকসা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে খোকসা থানা পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। এ সময় তারা উপজেলা গেটের সামনেও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ৪০ মিনিট কর্মসূচি চলার পর ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
পূর্বের ঘটনার সূত্র এর আগে শনিবার (২০ জুন) খোকসা উপজেলার চরপাড়া গ্রামে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বিল বিতরণে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রাহক মোতালেব হোসেন ও পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডার মো. বাচ্চু মিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। মোতালেব হোসেনের দাবি, কয়েক মাসের বকেয়া বিল পরিশোধ করার পরও এক মাসের জন্য ১ হাজার ৬৮০ টাকা বিল এসেছে, যা অস্বাভাবিক। তার বাড়িতে সীমিত সংখ্যক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থাকায় এত বিল আসার যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন। অন্যদিকে মিটার রিডার মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, বিল তৈরির দায়িত্ব তার নয়।
মিটারে কোনো ত্রুটি আছে বলে মনে হলে গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে খোকসা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, মোতালেব হোসেনের কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। বকেয়া পরিশোধের পর সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়। বিল বিতরণের সময় তিনি কর্মচারীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন। এজিএম আরও দাবি করেন, মোতালেব হোসেনের নামে আবাসিক সংযোগ থাকলেও সেখানে বাণিজ্যিকভাবে গরুর খামার পরিচালনা করা হচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত। এছাড়া সম্প্রতি বিদ্যুতের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মোতালেব হোসেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।









