কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রায় কোটি টাকার সংস্কার কাজে অনিয়মের আশঙ্কা

প্রশ্নের মুখে তদারকি

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চলমান মেরামত ও সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কারিগরি মান উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৮১ লাখ টাকার বিভিন্ন সংস্কার কাজ চললেও কাজের গুণগত মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় সচেতন মহল। সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বাথরুম ও পুরাতন ভবনের অংশ ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

কোথাও কোথাও সংস্কারের মান এতটাই দুর্বল বলে অভিযোগ উঠেছে যে, অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন বাথরুমে নতুন দরজা স্থাপন করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দরজার চারপাশের প্লাস্টার ফিনিশিং অসম্পূর্ণ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দরজার ক্ল্যাম্প বা গ্রিল বসানোর ক্ষেত্রে প্রচলিত ঢালাই পদ্ধতি অনুসরণ না করে দেয়ালে ড্রিল করে পাতলা লোহার পাত বসিয়ে ঝালাই দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নির্মাণসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ধরনের পদ্ধতিতে দরজা স্থাপন করলে অল্প সময়ের মধ্যেই দরজা নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এতে কাজের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা—দুটোই ব্যাহত হতে পারে। এদিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের স্যাঁতসেঁতে ও ঝরে পড়া দেয়াল সংস্কারে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার কাজ চলমান থাকলেও বাস্তবে অনেক স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পুরোনো প্লাস্টার অপসারণ না করেই তার ওপর পাতলা বালু-সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ড্যাম্প ওয়ালের মূল সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট বা গভীর মেরামত না করা হলে কিছুদিনের মধ্যেই দেয়ালে পুনরায় স্যাঁতসেঁতে ভাব ও প্লাস্টার খসে পড়তে পারে। দ্বিতীয় তলায় ভাঙা ও অকার্যকর টাইলস পরিবর্তনের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক স্থানে পুরোনো ফ্লোর না তুলে তার ওপরেই বালু-সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে নতুন টাইলস বসানো হচ্ছে। নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে কাজ করলে টাইলস দ্রুত ফেটে যাওয়া, ফাঁপা হয়ে ওঠা কিংবা উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এটি সরকারি অর্থের অপচয়ে পরিণত হতে পারে। হাসপাতালের বিভিন্ন দেয়ালে অসমভাবে রঙ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। কোথাও আংশিক, কোথাও অর্ধেক এবং কোথাও পুরো দেয়ালে রঙ করা হয়েছে। এতে কাজের সমন্বয়, পরিকল্পনা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চলমান কাজের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ‘গ/ঝ টহরপ ঞৎধফবৎং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান একাধিক সংস্কার কাজের দায়িত্ব পেয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কার্যকর তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করছে। হাসপাতালের সেবাগ্রহীতারা অভিযোগ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি হাসপাতালে নিম্নমানের সংস্কার কাজ জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা দ্রুত কাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইকবাল হাসান বলেন, কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

মেরামত কাজ নিয়ে কিছু অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদারকি করে কাজের মান যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহসীন বলেন, কাজগুলো এখনো চলমান রয়েছে। কোথাও ত্রুটি থাকলে ঠিকাদারকে তা সংশোধন করতে বলা হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত সংস্কার কাজে স্বাধীন কারিগরি তদারকি, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে নিম্নমানের কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে না।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর