প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফের চালু রোজ হলিডে পার্ক - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফের চালু রোজ হলিডে পার্ক

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৬, ২০২৬

জনমনে বাড়ছে প্রশ্ন

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বাইপাস সড়ক সংলগ্ন বহুল আলোচিত ‘রোজ হলিডে পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট’ আবারও চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক অভিযান, জরিমানা এবং বন্ধ রাখার নির্দেশনার পরও রহস্যজনকভাবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা ও আইন প্রয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, গত ১৬ জুন ২০২৫ মিরপুর উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিবন্ধন সনদ না থাকায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে বৈধ কাগজপত্র না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সেই নির্দেশনা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

কিছুদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে রিসোর্টটির সকল কার্যক্রম আগের মতোই চালু রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ উঠলেও সেগুলো চাপা পড়ে যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—যে প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসন নিজেই অবৈধ ঘোষণা করে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে, সেটি কীভাবে আবার চালু হলো? শুধু লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রমই নয়, রিসোর্টটির বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, কৃষিজমির পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, স্থানীয় কৃষকদের চলাচলের পথ সংকুচিত করা এবং বিনোদনের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রবিন আলী বলেন, যদি লাইসেন্স ও নিবন্ধন ছাড়াই একটি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে পরিচালিত হতে পারে, তাহলে আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনার কার্যকারিতা কোথায়? রিসোর্টটির বৈধতা যাচাই, স্থায়ী তদন্ত এবং জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ বলেন, “‘রোজ হলিডে পার্ক’ নামে কোনো পার্ক আমাদের উপজেলায় রয়েছে এ বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না, কারণ আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সম্প্রতি মোবাইল কোর্টের আদেশটি দেখেছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই-বাছাই করে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুন্ন হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।