খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ২:৫৩ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সন্ধ্যা হলেই দেখা মেলে মাদক কেনাবেচাকারীদের। কুষ্টিয়া মডেল থানার প্রাচীরঘেঁষা কলোনিতে মৃত হায়দার এর ছেলে জীবন ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা, চায়ের দোকানদার আকাশ ও তার মা সহ অনেকে মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর দুরান্ত থেকে মাদক বিক্রি এবং ক্রয় করতে আসে অনেকে। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৮টার দিকে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের সামনে থানার প্রাচীর ঘেষে মাদক কেনাবেচা করছে বয়োজ্যেষ্ঠ দুই ব্যক্তি।
দৃশ্যপটে মাদক ক্রয়কারী এক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তিনি অকপটে স্বীকার করে বলেন, মাঝে মধ্যে একটু আট্টু না খেলে মাথায় কাজ করে না। সামান্য একটু সেবনের জন্য নিয়েছে বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। অপর দিকে হালসা এলাকার এক ব্যক্তিকে ট্যাপেন্ডা ক্রয় করতে দেখা যায়, তিনি অকপটে স্বীকার করেন খাওয়ার জন্য ইন্ডিয়ান মাল দু পিচ নিয়েছি। মাদক ক্রয়কারী বলেন, আপনাদের প্রশাসনের লোক মনে করে ড্রেনে ফেলে দিয়েছি। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে প্রকাশ্যে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিছু অসাধু ব্যক্তি থানার প্রাচীর এলাকার কলোনি ও সুখনগর বস্তিতে এলাকার বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে মাদক লেনদেন ও সেবন করে অনেকে। এতে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে এলাকার সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা দাবি করেন। এদিকে স্থানীয়রা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। প্রশাসনকে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এলাকাটি মাদকমুক্ত হবে। তবে এর আগে জীবনসহ কলোনি বা বস্তি এলাকার অনেকে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও নাম মাত্র শাস্তি হয়েছিলো। জামিনে বের হয়ে তারা আবারো মাদক কেনাবেচায় সম্পৃক্ত হয়েছে বলে দাবি তোলেন তারা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে রেলের সামনে বা ওই এলাকায় রেল পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে। এরপরেও মাদক বা যেকোন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, ওই এলাকা যেহেতু রেল পুলিশের দায়িত্বে সে ক্ষেত্রে তারা আমাদের অবগত করলে অবশ্যই পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য