খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন। গতকাল শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া দক্ষিণ কুঠিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী তানহা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কুষ্টিয়া থেকে পাংশাগামী দ্রুতগতির একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে ও পুকুরে পড়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মোট চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন- খোকসা উপজেলার কমলাপুর এলাকার জুনাইয়েদ হোসেনের ছেলে নাবিল হোসেন (২৮) এবং দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর মাঠপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের মেয়ে রাফিয়া খাতুন (১৫)। নিহত অপর দুই পুরুষের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
আহতদের উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্থানীয় সূত্রে, বাসটি একটি ভ্যানকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে বাসটি খাদে পড়ে গেলে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করতে স্থানীয়দের বেশ বেগ পেতে হয়। অনেক যাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন।
এব্যাপারে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের এসআই মোহাম্মদ হালিম জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিঠুন চক্রবর্তী জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ বলেন, তানহা পরিবহনের একটি বাস রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে আসছিল। খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্যানের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাস উল্টে খাদে পড়ে যায়। এই ঘটনায় এক নারীসহ মোট চারজন মারা যান।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজনের মৃতদেহ রাখা আছে। এ ছাড়া, আহত ২০ জনকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। এরমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছয়জনকে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসান বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা ছয়জনের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ মারা গেছেন। বাকি তিনজন পুরুষ ও এক নারীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় আতঙ্ক ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজন হারানোর শোক ও আহতদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়রা মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
