কুষ্টিয়ায় হামে দুই শিশুর মৃত্যু - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় হামে দুই শিশুর মৃত্যু

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে। এ নিয়ে জেলায় হাম উপসর্গ নিয়ে মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে একজন হলো আট মাস বয়সী ইব্রাহিম, যিনি দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে।

ইব্রাহিম শুক্রবার বিকেলে হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আরেকজন হলো কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক এলাকার পাঁচ মাস ২০ দিন বয়সী আইজা, মমিনুর রহমানের কন্যা। আইজা গত ৩০ মার্চ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এর আগে শুক্রবার ভোরে আফরান নামে আরও এক শিশু মারা যায়, যার বয়স আট মাস।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হোসেন ইমাম জানান, ইব্রাহিম দুপুর সাড়ে ৩টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। শিশু হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের সঙ্গে হাসপাতালে আসে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আইজা ৩০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং সে হাম ও নিউমোনিয়ার চিকিৎসা চলাকালীন মারা যায়।

জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩২০ জন রোগীর মধ্যে ২৩০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে ৫-৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চিকিৎসকরা আরও জানান, আক্রান্ত শিশুদের সঠিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। জেলায় হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন সচেতনতা কার্যক্রম ও পরিবারকে সাবধানতার পরামর্শ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদেরকে সতর্ক করেছেন, শিশুদের রাতে শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং খিঁচুনি থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য। স্থানীয় প্রশাসনও হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত মেডিকেল সরঞ্জাম ও ডাক্তার নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বারবার অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেছেন, শিশুদের ভিড় বা জনসমাগম এড়ানো এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে জেলা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া এবং কোনও উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

হাসপাতালের কর্মকর্তা ও ডাক্তাররা রোগীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা জোরদার করার জন্য ২৪ ঘণ্টা তৎপর রয়েছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।