দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা, যা তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতিতে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দৌলতপুরে ২ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অনুকূল পরিবেশ ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও ১৫৫ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।
চাষিরা জানান, প্রাথমিক অবস্থায় তীব্র তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে মরিচ গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ফলে খেতগুলো আবার সতেজ হয়ে উঠেছে। এতে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা। স্থানীয় তারাগুনিয়া ও হোসেনাবাদ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে খুচরা বাজারে তা ১০৫ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। একদিনের ব্যবধানে দামের এই ওঠানামায় চাষিরা লাভবান হলেও সাধারণ ভোক্তাদের পকেট ভারী হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, সার, সেচ ও কীটনাশক বাবদ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমান বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে চাষিরা উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পোকা ও রোগবালাই দমনে সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার ফলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার মরিচের ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।









