বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনরায় সক্রিয় করার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শরিফ শেখ (৩৮) ও তাঁর বাবা শেখ আব্দুর রহমানকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে বাবার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ভিন্নমত রয়েছে।
শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার শরিফ শেখকে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা হলেও তাঁর বাবা শেখ আব্দুর রহমান স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, শরিফের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো পূর্ব অভিযোগ নেই। এমনকি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁকে মামলায় বা অভিযোগে জড়ানো হয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেছেন তারা।
অন্যদিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শরিফ শেখ তৎকালীন কুষ্টিয়ার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসীদের অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তরের একটি কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশে থাকা প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে শরিফ শেখ জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পর শরিফ শেখ ও তাঁর বাবা আওয়ামী লীগের বিক্ষিপ্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের ওপর নজরদারি করছিল বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। পরে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, গ্রেপ্তার ও অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শেখ আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগের ভিত্তি কি এবং কি ধরনের তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে মামলা ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।









