কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীর মনসুর আলীকে সহকর্মীদের সংবর্ধনা

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ ‘আসলে এর চেয়ে বড় কোনো পেশা হয় না। আমার সন্তানরা যারা পড়াশোনা করে, তারা ফেরেশতার সমতুল্য। তারা তো কোনো অন্যায় করে না। সেই তাদের সঙ্গে ৩৮ বছর থাকতে পেরে আমি ধন্য, আমি গর্বিত। সুযোগ থাকলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পড়াতাম। কিন্তু সরকারি চাকরি তো, সুযোগ নেই। তাই বিদায় নিতে হচ্ছে।’

 

কথাগুলো বলতে গিয়ে গলা ধরে আসছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিক্ষক মো. মনসুর আলীর। আবেগে বারবার চোখ মুছছিলেন তিনি।

 

গত বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস। ৩৮ বছর আগে যে স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন, সেই স্কুল থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসরে গেলেন।

 

মনসুর আলী কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক। ৩৮ বছর আগে এই স্কুলের যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর হাত ধরেই। একই স্কুলে টানা ৩৮ বছর পাঠদান বিরল ঘটনা।

 

তাঁকে বিদায় জানাতে গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) যদুবয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঙিনায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন যদুবয়রা ইউনিয়নের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। সেখানে ফুল, ক্রেস্ট আর ভালোবাসায় সিক্ত করা হয় তাঁকে।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মিরপুর, ঢাকা) উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা মাহমুদসহ ইউনিয়নের সব প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকেরা।

 

সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে মনসুর আলীর সততা ও নিষ্ঠার গল্প।

 

যদুবয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, ‘মনসুর স্যার অত্যন্ত বিনয়ী ও গুণী শিক্ষক ছিলেন। আমাদের অভিভাবক হিসেবে সর্বদা পাশে ছিলেন। চাকরির নিয়মে তাঁকে বিদায় দিতে হলো, আমরা মর্মাহত।’

 

লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান তাঁর বাকি জীবনের সুস্থতা কামনা করেন।

 

প্রধান অতিথি আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘সুস্থতা ও সম্মান নিয়ে বিদায় নেওয়াটা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যেন মনসুরের মতো এমন একটা বিদায় কপালে জোটে।’

 

অনুষ্ঠান শেষে মনসুর আলী সহকর্মীদের জড়িয়ে ধরেন। যাঁরা তাঁর সুখেদুঃখে ৩৮ বছর পাশে ছিলেন, তাঁরাই আজ তাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানালেন। কিন্তু শিক্ষার্থী ও আর সহকর্মীদের ভালোবাসায় তিনি যে আজীবন এই স্কুলে থেকে যাবেন, তা উপস্থিত সবাই অনুভব করছিলেন।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর