কুমারখালীতে সেতুর টোল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে সেতুর টোল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২১, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে কুমারখালীর সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুতে টোল বন্ধের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে হামলার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের লোকদের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার (২০ মে) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর মানববন্ধনকারীরা কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এছাড়াও সড়কের ওপর কয়েকটি টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাখেন।

সড়কের দুইদিকে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানযট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়ে কোরবানির গরু বোঝায় ট্রাকসহ শতশত যানবহন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা। সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করে সওজ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট টোল আদায় বন্ধের দাবিতে টোল্লাজায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর কয়েকদিন পর (১৩ আগষ্ট) সওজ কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করতে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা বাধা দেয়। এরপর থেকে সেতুতে টোল আদায় বন্ধ ছিল। এতে সেতু থেকে গত ২১ মাসে অন্তত ১৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

আবার টোল চালু করতে গত ১০ মার্চ নতুন করে দরপত্র আহবান করে সওজ। এতে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় সেতুতে টোল আদায়ের ঠিকাদারি পেয়েছে কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠান থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। গত সোমবার রাত থেকে দুই – তিন চাকার যানবহন বাদ রেখে টোল আদায় শুরু করেন ঠিকাদারের লোকজন। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে টোলপ্লাজা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শক্ত অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ। সাধারণ নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ঠিকাদারের লোকদের ধস্তাধস্তি চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে পুলিশ। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এ সময় অভিযোগ করে কুষ্টিয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির ( এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী কে এম আর শাহীন বলেন, ‘ অবৈধ টোল বন্ধের দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন চলছিল। কিন্তু ঠিকাদরের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়ে মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ছেন। আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। (বুধবার) কুমারখালী বাসস্টান্ডে অবরোধ করব।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আশরাফ হোসেন বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে দুই – তিন চাকার যানবাহন বাদ দিয়ে বৈধভাবে টোল তোলা হচ্ছে।কিছু লোকজন এসে মানবন্ধন করেছে। আমরা তাঁদের সহযোগীতা করেছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এরপর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন কয়েক’শ বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা। সড়কের দুইদিকে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানযট। এ সময় বাস চালক আল আমিন বলেন, ঘণ্টাব্যাপী যানযটে আটকে আছি। দুইদিকে শতশত গাড়ির মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরাও চাই টোল বন্ধ হোক। তবে এভাবে ভোগান্তি চাই না। জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান আলী বলেন, ‘ ৫ আগষ্টের পর টোল বন্ধ ছিল। টোল বন্ধ আপামোর জনগণের দাবি।

তবে কিছু প্রশাসনের আমলা, রাজনৈতিক নেতারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আবার টোল চালু করেছে। কিন্তু আমরা সাধারণ জনগণের পক্ষে আবার আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক নয়ন আহমেদ বলেন, ‘ মাছ-উদ রুমীতে সেতুতে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছিল। তারই প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। পরে প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টোল বন্ধের আশ্বাস দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। তবে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, টোল বন্ধের আন্দোলনে প্রায় দেড়ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন। বর্তমান যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আন্দোলন যৌক্তিক দাবিকে সম্মতি জানানো হয়েছে। তবে লিখিতভাবে কিছু দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে টোল আদায় চলছে। সকল ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।