বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাস্তবে চালের গোডাউন, অথচ কাগজে-কলমে শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠান। যা দেখিয়ে নেয়া হয়েছে সরকারি অনুদান। শুধু একটি নয়, সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারে অনুদান পাওয়া কুষ্টিয়ার ৩০টি প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেরই মেলেনি ঠিকানা। এই বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবি, প্রকৃত সংগঠনকে বঞ্চিত করে টাকা লোপাট করা হয়েছে।
পুরোপুরি চালের গোডাউন। অথচ নিয়মিত শিল্পচর্চার তথ্য দিয়ে নেয়া হয়েছে ৫৯ হাজার টাকার অনুদান। এ তালিকায় লোককথা শিল্পীগোষ্ঠীর ঠিকানা কুষ্টিয়া পৌর মার্কেটের দ্বিতীয় তলা। সেখানে খুঁজেও মেলেনি প্রতিষ্ঠানটির। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ক্যামেরায় সংগঠন প্রধানদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংগঠনের একজন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি তো সবসময় গান-বাজনা নিয়ে থাকি, ওখানে গান হয় ভাই। আমি, আমার ওখানে তো প্র্যাকটিস করি আমরা, বুঝছেন। হ্যাঁ, আর ইয়ে তো একটু গন্ধ লাগে বলে ইদানিং আমি একটু বাইরে প্র্যাকটিস করতেছি।’
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই লাইনে যা দোকান আছে সব গোডাউন। মানে চালের গোডাউন হোক, জালের গোডাউন হোক, আর আছে কি কোনো সুতা-বুতাম-টুতাম, লেস-টেস অনেককিছু যাবতীয় জিনিস আছে।’
সাড়ে ৩৬ হাজার টাকা অনুদান পাওয়া ফুলকুঁড়ি আসর, যার ঠিকানা শহরের কদমতলা মোড়ের হাউজিং বি ব্লকে। পুরো এলাকা ঘুরেও মেলেনি এর কার্যালয়। একই চিত্র শহরের আমলাপাড়ার অনন্যা ৭৯ নাট্যদল সংগঠনটির। বাস্তবে ফার্নিচারের দোকান, অথচ অফিস দেখিয়ে নেয়া হয়েছে অনুদান।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুষ্টিয়ার ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে মন্ত্রণালয়। অনুসন্ধানে বেশিরভাগের ঠিকানা ভূয়া, সাইনবোর্ড বা দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে পড়েনি। সাংস্কৃতিক কর্মীদের অভিযোগ, এতে বঞ্চিত হয়েছে প্রকৃত সংগঠন। ব্যাহত হচ্ছে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ। তাই বাস্তব অস্তিত্ব যাচাই করে অনুদান দেয়ার দাবি তাদের।
কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমি ওইভাবে সমালোচনা করবো না। তবে এটা ঠিক যে, অনেক সংগঠনেরই শুধু নামেমাত্র একজন বা দুইজন, একজন সভাপতি নাম দেন, একজন সেক্রেটারির নাম দিয়েই অনুষ্ঠান তো নাই সেরকম, তাদের ঘরও নাই, এই মানুষগুলো এই অনুদানগুলো পেয়ে থাকছে।









