রঞ্জুউর রহমান ॥ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মোহাম্মদ হাসান ইমাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, জেল সুপার শরিফুল আলম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা এবং ট্রেজারি ও স্ট্যাম্প শাখা) মেহেদী হাসান রিফাত, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (জুডিশিয়াল মুন্সিখানা ও গোপনীয় শাখা) জাকিউল আলম, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দিবসটির তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি উদযাপন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়া জেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সব কর্মসূচি সফল, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপনের মাধ্যমে এর সঠিক ইতিহাস ও গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে, যাতে তারা দেশ গঠনে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে। দিবসটি পালনে প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এ দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও চেতনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। দিবসটি পালনে দলমত-নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে দিবসটির কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়া শনিবার ৭নভেম্বর দলীয় ভাবে দিবসটি উদযাপনে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
সভায় বক্তারা দিবসটির ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা এবং হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
এ ছাড়া আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।









