ইবি প্রতিনিধি ॥ নানান সমালোচনা ও আশ্বাসের পরেও কমানো হয়নি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত নিবন্ধন ফি এর পরিমাণ। নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা ধার্য করেই আগামীকাল ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পঞ্চম সমাবর্তন নিবন্ধন যা চলবে আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সনদপত্রের ফিও নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সমাবর্তনের প্রচার উপকমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক (অনার্স) পর্যায়ে সনদপত্রের জন্য ৫০০ টাকা, স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ে ৭০০ টাকা, এমফিলের জন্য ১ হাজার টাকা এবং পিএইচডি ডিগ্রির জন্য ২ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সমাবর্তনে সর্বোচ্চ তিনজন অতিথি সঙ্গে নেওয়া যাবে। স্বামী বা স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী সন্তানের জন্য কোনো অতিথি ফি দিতে হবে না। তবে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক অতিথির জন্য ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে সমাবর্তনের ফি নির্ধারণের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি বহন করা কঠিন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সময় দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন তা আমলে না নিয়ে ফি অপরিবর্তিত রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।
আল ফিকহ বিভাগের সোহরাব লিখেছেন, শিক্ষার্থীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নামমাত্র ফি কমানোর তামাশা এবং শুভঙ্করের ফাঁকির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ৫০০ টাকা কমানো কোনো সমাধান নয়, এটি শুভঙ্করের ফাঁকি! দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে অনার্স-মাস্টার্স দুই ডিগ্রি মিলিয়ে ৪০০০-৪৫০০ টাকা রাখা হয়, সেখানে ইবিতে মাত্র ৫০০ টাকা কমিয়ে এখনও সাড়ে ৫ হাজার টাকা রাখা হচ্ছে, যা বেকার ও রানিং শিক্ষার্থীদের জন্য স্পষ্ট প্রহসন। সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েটদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের উৎসব, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল ভারী করার কোনো বাণিজ্যিক ইভেন্ট নয়।
শাখা ছাত্রশক্তির আহবায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, যখন শিক্ষার্থীরা সব দিক থেকে সমাবর্তন ফি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করল, তখন ‘এখনো ফি চূড়ান্ত হয়নি’ এমন উক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলো অথচ যখন সবাই চুপচাপ, তখন অফিশিয়াল পেজ থেকে আগের ঘোষিত সেই বড় অঙ্কের ফি-টাই আবার ঘোষণা দেওয়া হলো। ইবির প্রশাসন রাজনীতি শিখে গেছে। এর জন্য একটা বাহবা দেওয়াই যায়!
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহবায়ক এস এম সুইট লিখেছেন, সমাবর্তন আমাদের অধিকার। সমাবর্তনের নামে শিক্ষা বাণিজ্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ সমাবর্তনের নামে কর্পোরেট ব্যবসা প্রসারিত করার পায়তারা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আকাশচুম্বী ফি নির্ধারণ করে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, সনদ কোনো বিক্রয়যোগ্য বস্তু নয়। মেধা ও শ্রম দিয়ে অর্জিত ডিগ্রি টাকার দাঁড়িপাল্লায় মাপা বন্ধ করুন।টাকার জোরে উৎসব হবে না।









