ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পালিত হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি প্রশাসন ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঝাল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মশা নিধনের লক্ষ্যে ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, আবাসিক হলগুলোর প্রাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু এক দিনের কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখন আর শুধু ঢাকা শহরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। একাডেমিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। নিজ নিজ আঙিনা, ঘরের ভেতর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে নিজ দায়িত্বে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।’ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী এক মাসের মধ্যে ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরিচ্ছন্নতার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।









