কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ইজারাদার-নদীপথের জনগনের নিরাপদ নৌ-রুটের দাবী, পদ্মা নদীতে চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ড

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা ও পদ্মা নদীসংলগ্ন রাজশাহীর বাঘা,পাবনার ঈশ্বরদী এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার নদীপথে নিরাপদ নৌ-রুট নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বালু মহালের ইজারাদার, ব্যবসায়ী, জেলে, মাঝিমাল্লা ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী বিল্লাল মন্ডল বাহিনী সহ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও পদ্মা নদীর ওপার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী ও ডাকাতি এইসব চক্রের কারণে সরকার অনুমোদিত বালু মহালের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজশাহীর চারঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি এবং পাবনার ঈশ্বরদী লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির নিয়মিত নৌ টহল জোরদার করা হলে নদীপথে নিরাপত্তা ফিরবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ত্রাসী বিল্লাল মন্ডল বাহিনীর ও সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বালু মহালের ইজারাদারদের কাছে অবৈধভাবে চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হামলার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালু মহাল সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে আজিজুল হক ঝড়ু নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় এবং এর আট দিনের মাথায় ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে সাহাবুল নামে আরেক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তবে আজিজুল হক ঝড়ু হত্যা ঘটনায় নাটোর জেলার লালপুর থানাতে একটি হত্যা মামলা হয়েছে, সেটা নৌ পুলিশ ঈশ্বরদী লক্ষীকুন্ডা ফাঁড়ীর উপ-পুলিশ পরিদর্শক তদন্তভার পেয়েছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী মন্ডল বাহিনী প্রধান বিল্লাল ও মুন্তাজ মন্ডলের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান দৃশ্যমান নয় বলেও দাবি করেন তারা।তবে অনুসন্ধানে জানাগেছে, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের সন্ত্রাসী বাহিনীরা পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে রাজশাহী বাঘা উপজেলার চানপুরের সন্ত্রাসী বিল্লাল ও মুন্তাজ মন্ডল বাহিনীর সাথে একত্রিত হয়ে বৈধ ইজারা প্রাপ্ত বালু মহালে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলাবারুদের ব্যবহার করে দখলের জন্য।এদিকে পদ্মা চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ভাষ্য, নিরাপত্তাহীনতার কারণে কৃষক, জেলে, মাঝিমাল্লা এবং বৈধ ইজারাদাররা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

তাদের মতে, নদীপথে নিয়মিত নৌ টহল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লক্ষীনগর মৌজার সরকার অনুমোদিত বালু মহালের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আরফান মিয়া বলেন, “আমরা সরকারের কাছ থেকে বৈধ প্রক্রিয়ায় দরপত্রের মাধ্যমে বালু মহাল ইজারা নিয়েছি। কিন্তু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির কারণে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছি না। বালু ঘাট চালু হলেই চাঁদা দাবি করা হয়।চাঁদা না দিলে মাঝিমাল্লাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে ও সদ্য পর পর দুইটা হত্যাকান্ড ঘটেছে।

আমরা নৌ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাই।” তবে উপরোক্ত বিষয়ে রাজশাহী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সদ্য দুইটা হত্যারকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারির জোরদার করা হয়েছে,অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে, নৌ রুটে পরবর্তীতে যেনো আর এমন দুর্ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কাজ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে, মাঝিমাল্লা ও বালু মহাল সংশ্লিষ্টদের একটাই দাবি-পদ্মা নদীতে নিয়মিত নৌ টহল বৃদ্ধি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমন এবং দ্রুত নিরাপদ নৌ-রুট নিশ্চিত করা।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর