বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিরোধীদলীয় এমপি আমির হামজা। গণঅধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের নামে অভিযোগ দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বললেন, ‘এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা। কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে গত শনিবার জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় এমপির গাড়িচালককে লাঠি নিয়ে বের হতে দেখা গেছে- এক সাংবাদিক এ প্রসঙ্গ টানলে এমপি বললেন, ‘আমার সরকারিভাবে কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স নেই এবং বডিগার্ডও নেই। নিরাপত্তার স্বার্থে গাড়িতে দুটি লাঠি রাখা ছিল। যখন তারা আক্রমণ শুরু করে, তখন আমার ড্রাইভার আত্মরক্ষার্থে লাঠি নিয়ে নেমেছিল এবং আমি নিজে স্টিয়ারিং ধরে গাড়ি চালিয়ে সরিয়ে নিই।’ হামলার ঘটনায় গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) সদর মডেল থানায় এজাহার জমা দেন মুফতি আমির হামজা। অভিযুক্ত করেন গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ থেকে ১৫০ জনকে। এরপর দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘড়িয়া এলাকার জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে এমপি জানান, শনিবার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিয়ে ফেরার সময় গণঅধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। তার অভিযোগ, ‘এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা বা সাধারণ অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছিল না; এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা। শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করা এবং আমার গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।’ ‘একজন জনপ্রতিনিধি ও আলেম হিসেবে জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করাই আমার দায়িত্ব। কিন্তু যারা রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, প্রকাশ্যে একজন সংসদ সদস্যের ওপর পরিকল্পিতভাবে আঘাত হানার দুঃসাহস দেখায়, তারা সমাজের শত্রু, কুষ্টিয়াবাসীর শত্রু’-যোগ করেন তিনি।









