নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ার সময় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিলুর রহমান (৪৫) ওই বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। ঘটনার পর থেকে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর আইনি প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার না পেয়ে চরম হতাশ পরিবারটি শেষ পর্যন্ত সব বিচার আল্লাহর দরবারে সঁপে দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার সকালে পৌর এলাকার কুন্ডুপাড়ার একটি বাসায় প্রাইভেট পড়া শেষ হয়। এ সময় শিক্ষক শাকিলুর রহমান ছাত্রীকে একা পেয়ে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেন। পরে দুজনের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে বাড়ি চলে যায় এবং পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ঘটনা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা প্রতিকার চাইতে বিদ্যালয়ে যান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেননি এবং যথাযথ সহযোগিতা করেননি। কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শরণাপন্ন হয় এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীর মা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষকের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। থানা ও উপজেলা প্রশাসনের বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হলো না। কেন পুলিশ মামলা নিচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এখন আর কোনো বিচার চাই না, সব বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম, তিনিই সঠিক বিচার করবেন।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ফ্যানের সুইচ দেওয়ার সময় তার শরীরে হাত লেগেছিল।
এ বিষয়ে কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মদক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, “এই বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আমি মৌখিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলেছি।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইসুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









