বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নিমতলা বাজারে অনুমোদনহীন তরল সার বোতলজাত করার অভিযোগে একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় গোডাউন থেকে দুই ড্রাম তরল সার ও ১০০ মিলিলিটারের ৬৭২টি বোতল জব্দ করা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া সার প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে নিমতলা বাজারসংলগ্ন ওই গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোডাউনটিতে অবৈধভাবে তরল সার বোতলজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে সেখানে সংরক্ষিত তরল সার ও বোতল জব্দ করা হয়। সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৮(১) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোডাউনটি আশিক নামের এক ব্যক্তির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছিল। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ গোডাউনটির সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে নকল সার ও দানাদার কীটনাশকও মজুত ছিল।
গোডাউনটির মালিকানা ও ব্যবসার সঙ্গে মিরপুর-ভেড়ামারা আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সংসদ সদস্যের ছেলে মো. সোহেল রেজা এবং তাঁর নাতি আশিক মালিথা ব্যবসাটির সঙ্গে যুক্ত।
অভিযান সম্পর্কে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, আমরা ওখানে গিয়ে দেখতে পাই তরল সার বোতলজাত করা হচ্ছে। আমরা বোতলজাত ও ড্রামে যা সংরক্ষণ করা ছিল, সেগুলো জব্দ করে নিয়ে আসি।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অফিসে এসে কাগজপত্র দেখান। কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। কীটনাশকসংক্রান্ত অন্য বিষয়গুলো কৃষি কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেবেন।
ইউএনও আরও বলেন, তরল সারের অনুমোদনই নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাজারজাতকরণের ইস্যুর জন্য ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যেটা জব্দ করে নিয়ে এসেছি, সেটা জব্দ।
গোডাউনটি সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের ছেলের কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ঘটনাস্থলে আশিক নামের এক ব্যক্তিকে দায়িত্বে পাওয়া যায়। পরে তিনি এসে হাজির হন এবং তাঁর নামেই জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যের ছেলের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তাঁর নিজের জানা নেই বলেও জানান তিনি।
অভিযানের পর কোনো ধরনের চাপ ছিল কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, কোনো চাপ নেই। এমনি গতানুগতিক কিছু মানুষের সুপারিশ আছে, সেটা থাকেই।
এদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, গোডাউনটিতে সার ও কীটনাশকসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সেখানে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষা এবং মানহীন ও অননুমোদিত কৃষি উপকরণের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।









