সবুজ আলী, খোকসা ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের সুপারিশের তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষিকা সালমা খাতুনকে প্রায় আট ঘণ্টা নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালিদ বিন মনসুর ও খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুর রহমানের হস্তক্ষেপে তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগামী রোববার চার আবেদনকারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে মোট চারজন আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের নাম সুপারিশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। তালিকা থেকে মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের নাম বাদ পড়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষিকাকে অবরুদ্ধ করে রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রধান শিক্ষিকা সালমা খাতুন বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে তিনজনের নাম পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তিনজনের নাম জমা দিয়েছেন। কিন্তু সভাপতি পদের জন্য মোট চারটি আবেদন জমা পড়ে।
তিনি বলেন, “মুস্তাক ভাইয়ের নাম বাদ পড়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনজনের নাম পাঠাতে বলেছিলেন। আমি চারজনকেই সমন্বয়ের মাধ্যমে একজনের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু তাঁরা কেউই সমন্বয় করতে আসেননি।”
প্রধান শিক্ষিকা আরও জানান, গত ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। এর আগে গত মার্চ মাসেও এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তালিকা থেকে বাদ পড়া মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক অভিযোগ করে বলেন, তিনি সভাপতি পদের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষিকা তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই গোপনে তিনজনের নাম সুপারিশ করে ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছেন।
তাঁর দাবি, কী কারণে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেননি। এ কারণেই তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তমিজ উদ্দিন বলেন, তালিকা থেকে বাদ পড়া মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে কক্ষ থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না। তবে কী কারণে তাঁর নাম বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে জানান।
ঘটনা গড়িয়ে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত পৌঁছালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ বিন মনসুর ও খোকসা থানার ওসি জাহেদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে মুস্তাকের সমর্থক ও রবিন রায়হান জসিমের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে আগামী রোববার চার আবেদনকারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ বিন মনসুর বলেন, “আগামী রোববার যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের সঙ্গে বসার জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন খোকসা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিন রায়হান জসিম, উপজেলা জিয়া শিশু-কিশোর দলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মানিক, খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক নাহিদুল ইসলাম রাজু এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক।
রবিন রায়হান জসিম ও সোহেল রানা মানিকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।









