বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিল্প উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় পাঁচ দিনব্যাপী ‘শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ’ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সকালে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ খাতের বিকাশের মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদ ও কাঁচামালের ব্যবহার বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা সম্ভব। তবে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পণ্যের মান নিশ্চিত করা, উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ, বাজার বিশ্লেষণ, পণ্য বিপণন এবং ব্যবসা পরিচালনার সঠিক কৌশল জানা জরুরি।
এ ধরনের প্রশিক্ষণ সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিকল্পনা প্রণয়ন, শিল্প উদ্যোগ গ্রহণ এবং উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা অর্জনে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং বিদ্যমান ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশেও প্রশিক্ষণটি ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়ার উপমহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশানুজ্জামান।
বক্তারা বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাবনাময় ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা, শিল্প উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।
কুষ্টিয়ায় কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মশলা উৎপাদন, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে এসব খাতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ সম্ভব।
বিসিকের এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে এবং বিদ্যমান ব্যবসার পরিসর বাড়াতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।









