কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সুগন্ধি ধান উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ, গুরুত্ব পাচ্ছেন কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দেশীয় সুগন্ধি চালের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজারব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত করতে কৃষকসহ কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এ উদ্যোগের আওতায় কৃষক, কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী, কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী, পাইকার, আড়তদার, পরিবহন ও প্যাকেজিং সেবাদাতা, আর্থিক সেবাদানকারী এবং বিপণনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একই কাঠামোর আওতায় এনে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কার্যকর সংযোগ তৈরির সুযোগ রয়েছে।

 

সুগন্ধি চাল বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য। চিনিগুঁড়া, কালিজিরাসহ বিভিন্ন জাতের সুগন্ধি ধানের চাহিদা দেশের বাজারে রয়েছে। তবে ভালো মানের ধান উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মোড়কজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সমন্বিত বাজারব্যবস্থা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার সিনিয়র বিপণন কর্মকর্তা ইশরাত জাহান মুন জানান, সুগন্ধি ধান উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য স্কুল গঠন এবং উপজেলা পর্যায়ে ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব কাঠামোর মাধ্যমে কৃষকসহ বাজারের বিভিন্ন অংশীজনকে সংগঠিত করা, বাজারের তথ্য সরবরাহ, নতুন বাজারে প্রবেশে সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং কৃষিপণ্যের বিপণনব্যবস্থা শক্তিশালী করার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।

 

তিনি বলেন, সুগন্ধি ধানের ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষক ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ধানের জাত নির্বাচন, উৎপাদন পরিকল্পনা, সংগ্রহের সময় নির্ধারণ, মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা সম্ভব।

 

উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত সমন্বয় উল্লেখ করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা জিয়া হায়দার বলেন, 

সুগন্ধি চালের বাজার সম্প্রসারণে শুধু কৃষকের উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। উৎপাদিত ধানের গুণগত মান বজায় রাখা, সঠিকভাবে শুকানো ও সংরক্ষণ, ধান থেকে চাল প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মোড়কজাতকরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা, চালকলের মালিক, ব্যবসায়ী ও পরিবেশকদের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম প্রয়োজন।

 

এদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজারসংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং বিক্রির উপযুক্ত সময় সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে পরিকল্পিতভাবে ধান সংগ্রহ করতে পারলে সরবরাহব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আসতে পারে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

 

সুগন্ধি ধান উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিপণ্য সংগ্রহ, বাছাই, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ের সঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যুক্ত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সুগন্ধি চালের ব্র্যান্ডিং এবং মানসম্মত পণ্য বাজারজাত করার উদ্যোগ কৃষিপণ্যের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

 

এ ক্ষেত্রে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, কৃষক সংগঠন, চালকল মালিক, ব্যবসায়ী সমিতি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। উৎপাদন পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাজারে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল অংশীজনদের ভূমিকা নির্ধারণ করা গেলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর হতে পারে।

 

দেশীয় বাজারের পাশাপাশি মানসম্মত সুগন্ধি চালের জন্য বিশেষায়িত বাজার তৈরিরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা, সঠিক জাতের পরিচিতি নিশ্চিত করা, ভেজাল প্রতিরোধ, উপযুক্ত প্যাকেজিং এবং ক্রেতার আস্থা অর্জন জরুরি। বাজারের চাহিদা ও কৃষকের উৎপাদন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় থাকলে সুগন্ধি চালের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

 

সব মিলিয়ে, কৃষকসহ উৎপাদন ও বিপণনসংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সুগন্ধি ধান উৎপাদন থেকে চাল বাজারজাতকরণ পর্যন্ত একটি কার্যকর মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য, উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ এবং ভোক্তার কাছে মানসম্মত সুগন্ধি চাল পৌঁছে দেওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর