কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ স-মিলপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে সেখানে বসবাস করা ১৮ থেকে ২০টি পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে এ পরিস্থিতি চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রায় ২৫ বছর আগে পদ্মা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে তাঁরা স্থানীয় আরজেত আলী ও তাঁর ভাইদের কাছ থেকে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। জমি বিক্রির সময় আরজেত আলী তাঁদের জমির পাশ দিয়ে ছয় ফুট প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা নির্ধারিত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে পরিবারগুলো দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে ওই পথ ব্যবহার করে আসছিল।

 

সম্প্রতি পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয় হিটু ও তাঁর লোকজন প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে রেলিং তৈরি করে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি জমি বিক্রেতা আরজেত আলীকে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরে চলাচলের সুবিধার জন্য জমি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জমির কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান বলেও অভিযোগ তাঁদের।

 

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, “প্রায় ২৫ বছর আগে যাতায়াতের রাস্তা দেখিয়েই আমাদের কাছে জমি বিক্রি করা হয়েছিল। এত দিন আমরা ওই রাস্তা ব্যবহার করেছি। এখন পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা চলাচলের জন্য জমি কিনে নিতে চাইলেও তাঁরা জমির কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।”

 

জহুরা খাতুন বলেন, “দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা প্রায় এক মাস ধরে বাঁশের রেলিং দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে আমাদের চলাচলে খুব অসুবিধা হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক মানুষ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পড়েছি। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলেমেয়েদেরও যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।”

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিটু বলেন, “আমরা জমি বায়না করেছি। বায়নাসূত্রে জমিটি দখলে নিয়েছি।” এ সময় তাঁর কাছে বায়নানামা দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

 

এলাকাবাসী জানান, চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত পথটি বন্ধ থাকায় যেকোনো সময় এ নিয়ে বিরোধ ও সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। দ্রুত রাস্তা খুলে দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

এ পরিস্থিতিতে চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধার ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছেও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন তাঁরা।

 

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “অভিযোগ দিয়ে থাকলে তাঁদের আমার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করব।”

 

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর