কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মিরপুরে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নে বিএনপি নেতার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মোঃ রতন আলী (২৩) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণের বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

 

ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এদিকে, নিহতের মা, স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতার বক্তব্যে ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে মালিহাদ বাজারে বিএনপি নেতা মোঃ টিলু হোসেনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে রতন আলীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। টিলু হোসেন মালিহাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক বলে জানা গেছে।

 

নিহত রতন আলী মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের জোয়ার্দার পাড়ার মৃত রইচ উদ্দিন বুড়োর ছেলে।

 

নিহতের মা চায়না খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত ছিল এবং তাঁর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন চুরি করেছিল। এ ঘটনায় ছেলের বিচার চেয়ে তিনি তাকে মালিহাদ বাজারে টিলু হোসেনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে ছেলেকে কার্যালয়ের ভেতরে রেখে শাটার বন্ধ করে পাশের একটি বাড়িতে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে ছেলেকে পরনের লুঙ্গি দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান বলে তিনি দাবি করেন।

 

চায়না খাতুন আরও জানান, পরে তিনি ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ নিচে নামান। মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর দাবি, মরদেহ নামানোর সময় ফ্যানের সঙ্গে আঘাত লেগে মাথায় জখম হয় এবং সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হয়।

 

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোঃ টিলু হোসেন জানান, ঘটনার দিন দুপুরে তিনি পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি স্থানে একটি বিষয় নিয়ে আয়োজিত সভায় ছিলেন। পরে মুঠোফোনে তিনি রতন আলীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার খবর জানতে পারেন বলে জানান। তবে ঘটনার সময় তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

 

এদিকে, ঘটনার সংবাদ পেয়ে মালিহাদ ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই ইউসুফ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে, পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি টিলু হোসেনের কার্যালয় থেকে নিহতের বসতবাড়িতে নিয়ে গেছেন।

 

অন্যদিকে, মিরপুর-ইবি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হক মজুমদার জানান, মিরপুর থানার ওসি তাঁকে জানিয়েছেন, মালিহাদের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁকে আলমডাঙ্গার হারদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়।

 

তবে নিহতের মা চায়না খাতুনের বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের মাধ্যমে পাওয়া ওই তথ্যের বিবরণে পার্থক্য রয়েছে। তাঁর দাবি, ছেলে টিলু হোসেনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের ভেতরেই গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান। অন্যদিকে, টিলু হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং মুঠোফোনে ঘটনার খবর পান। ফলে ঘটনার সময়, স্থান ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

পরবর্তীতে মিরপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এরপর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

 

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

রতন আলীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মাথায় আঘাতের উৎস এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর