রঞ্জুউর রহমান ॥ “লালন শাহের তিরোধান দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ”—বলেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম।
কুষ্টিয়ায় বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি তৌহিদ বিন-হাসান। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগম।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব বলেন, তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় দর্শনার্থী, লালনভক্ত ও সাধারণ মানুষের সুশৃঙ্খল প্রবেশ ও চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানস্থলের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থী ও লালনঅনুরাগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আগত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অনুষ্ঠানস্থলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান সংস্কৃতি সচিব।
তিনি আরও বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে লালন তিরোধান দিবসের ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত মেলার মাঠে মাদকসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্তও এ পরিস্থিতি বজায় রাখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মেলা ও অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক।
সভায় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সিকদার মোহাম্মদ হোসেন ইমাম, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা কালচারাল অফিসার মোহাম্মদ তাইফুর রহমান এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, লালন একাডেমির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় লালন তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, জরুরি চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।









