কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ‘গাঁ’র উপরে ওপরতে আগুন পড়লে ঘুম ভাঙে যায়। তখন দাউ দাউ আগুন দেখে বউ – ছোয়াল নিয়ে কোনোমতো ঘরতে বাইরে দৌড় মারি। এরপর চেঁচামেচি শুনে লোকজন জলদি করে আসে পানি ঢালে আগুন নিভালো। কিন্তু ততক্ষণে চাল, ডাল, মালামাল সব পুড়ে ছাই। মাত্র ২০ মিনিটের আগুনে সব শ্যাষ, অবশিষ্ট শুধু খুঁটি কয়ডা। এখন ক্যাম্বা কি করবনে কিছু টের পাচ্ছিনে।’
আক্ষেপ করে কথা গুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর হাসান আলী (৩৫)। তিনি উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী রেলপাড়া এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। পেশায় দিনমজুর হাসান আলীর নিজস্ব কোনো জায়গা – জমি নেই। রেলের ধারে টিনের ছাবড়া ঘরে স্ত্রী নুপুর খাতুন, প্রতিবন্ধী ছেলে হোসেন আলী (৫) ও বৃদ্ধ মা ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে বাস তাঁর।
গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে তাঁর বাড়িতে আগুন লাগে। প্রতিবেশিরা ছুটে এসে প্রায় ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে ততক্ষণে ঘরে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা, আসবাব, চাল – ডাল, কাপড়চোপড়, ঘরসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন এই অসহায় পরিবার। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক ধারণা স্বজন ও স্থানীয়দের।
হাসান আলীর ভাষ্য, দিন আনতে তাঁর পান্তা ফুড়ায়। কোনমতে চলছিল সংসার। ২০ মিনিটের আগুনে তাঁর স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নতুন ঘর নির্মাণে তাঁর সামর্থ নেই। সরকারের সহযোগীতা চান তিনি।
দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, রেললাইনের ধারে কয়েকটি টিনের খুপড়ি ও ছাবড়া ঘর। সেখানেই পরিবার নিয়ে দিনমজুর হাসানের বাস। বাতাসে পোড়া গন্ধ। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হাসানের বাড়ি ও আসবাব। দাঁড়িয়ে আছে শুধু সিমেন্টের খ্ুঁটি। প্রতিবেশিরা ছুটে এসেছেন। নেই কোনো সড়ক বা রাস্তা। রেললাইনের ওপর দিয়েই চলাচল করেন তাঁরা।
এ সময় হাসানের স্ত্রী নুপুর খাতুন কাঁন্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আগুন টের পেয়ে দৌড়ে জীবন বাঁচায়। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নাই। এখন সকলে মিলে যদি ঘরটা করে দিতো। তাহলে একটু মাথা গুজার ঠাঁই ডা হতো।
কাঁদতে কাঁদতে হাসানের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, চারডে মানুষের কাপড়চোপড়, হাড়ি – পাতিল কিছুই নাই। মানসে কয়ড়া খাবার দিছে তাই সকালে খাইছি। সরকার যদি একটু দেখত। তাহলে বাঁচতাম।
আগুনে শুধু একটি ঘর নয়—পুড়ে গেছে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়। এখন অসহায় হাসানের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিবেশী শিখা খাতুন।
আগুনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার সহযোগীতা করা হবে। লিখিত আবেদন পেলে পরবর্তীতে বরাদ্দ প্রাপ্ত সাপক্ষে সরকারি সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।









