কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বিলুপ্তির পথে খোকসা হাওর পাড়ের কুটিরশিল্প 

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা জানিপুর কমলাপুরের হাওর পাড়ে বাস করেন কিছু আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন। জীর্ণশীর্ণ অনুন্নত পরিবেশে ১২/১৩ ঘর লোকের ঘর বসতি। মাঠে কারোর এক চিলতে জমি নেই। বাঁশ  ও বেতের কুটির শিল্পকে পুঁজি  করে গায়ে খেটে কোনরকম বেঁচে আছেন তারা। বয়োবৃদ্ধ প্রভাস দাস। বয়স ৫৭ বছর। তিন মেয়ে এক ছেলে ও স্ত্রী শিখা রানী দাস কে নিয়ে কোনরকম জীবন যাপন করেন।

পূর্ব  পুরুষদের বাঁশ  ও বেতের শিল্প কে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তারা।  দুই মেয়ে বিয়ে হয়েছে আগেই। পরিবারের শুধু প্রভাস দাস উপার্জন করেন। তাই দিয়ে সংসার চালান। বাজারে, গ্রামগঞ্জে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র ঝুড়ি, কুলা, চালন, দোলনা, ডালা ফেরি করে বিক্রি করেন। প্লাস্টিকের জিনিস বাজারে সয়লাবের কারণে বাঁশবেত দিয়ে তৈরি জিনিস কেউ কিনতে চান না। বর্তমানে  বেতের অভাবের কারণে এ কুটির শিল্প গ্রাম থেকে উধাও হয়ে গেছে। বাঁশ  ও বেতের  তৈরি কুটির শিল্পে লাভজনক না হওয়ায়  অনেকেই পূর্বপুরুষদের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য কুটির শিল্প এখন বিভক্তির পথে। শিখা রানী দাস বলেন, এ কাজ করে কোন লাভ নেই বাবা। টাকার অভাবে মেয়েটা লেখাপড়া  বন্ধ করে দিয়েছে। স্বামীর সাথে মেয়ে আর আমি  চালন কুলা বানাই। ছেলে জগন্নাথ ভার্সিটি পড়ে।  টিউশনি আর ধার দেনা করে খরচ চালাই।  একথা বলতে বলতে ফ্যাল ফ্যাল করে অশ্রুসজল নয়নের তাকান। এভাবেই হাওর পাড়ের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেক পরিবারের কষ্টের জীবন মোড়ানো। খোকসা উপজেলায় নকশা পাড়া, চাদট, কমলাপুর ও সমষপুরে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোক বাস করেন। তাদের জীবন  জীবিকা একই সূত্রে গাঁথা।

প্রভাস দাস বলেন, আমার প্রতিদিন এসব বিক্রি করে  কামাই  হয় দেড়শ টাকা।  বাজারে  প্লাস্টিক জিনিসের কারণে বাঁশের জিনিস কিনতে চায় না। সরকার থেকে ওই রকম সহায়তা পাই না। মাঝে মধ্যে  কিছু চাল পাই। কি আর বলবো বাপু, সাহায্য  সহযোগিতা যাতে পাই তোমরা একটু চেষ্টা করে দেখো। মেয়ে অন্তরা দাস বলেন, টাকা-পয়সা নাই কি করে পড়বো। বাবার সাথে কাজ করি। এসব কথা বলে মুখ লুকান তিনি। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান চাঁদ মানব   উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মুহাঃ কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের সংগঠন  থেকে স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য উপকরণ ও প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ারের বিতরণের  কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা চিকিৎসা সহায়তা করব। এ প্রসঙ্গে খোকসা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জহুরুল ইসলাম বলেন, পাশের উপজেলা কুমারখালীতে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এরা সহায়তা পাবে। আমার উপজেলায় সরকারি বরাদ্দ আসলে আমরা অবশ্য সহায়তা করব।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর