কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পরিবারের সিদ্ধান্তে কথিত পীরের কবর পাকা করে দিল প্রশাসন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিবারের সিদ্ধান্তে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের কবর পাকা করে দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা শামিমের কবরটি পাকা করা হয়। গেল শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই কবরস্থান থেকে শামিমের দেহাবশেষ তুলে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে পুনরায় দাফন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রশাসনের নির্দেশে দরবার শরিফ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে বিকেল ৪টার দিকে ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত কবরস্থানে আগের কবরে পুনরায় দাফন করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে শামিমের দেহাবশেষ তুলে নেওয়া হয়।

পরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফের প্রাঙ্গণে তা পুনরায় দাফন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহত শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। লাশ অবমাননার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করা হয়। তবে এজাহারে অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

কবর পাকা করার বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, আর যেন কেউ কবর খুঁড়ে লাশ তুলতে না পারে, এ জন্য আমরা কবরটি পাকা করে দিচ্ছি। লাশ টানাটানি আর যেন না হয়, এ জন্য ইট-সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে সিলগালা করা হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবার শরিফ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করে দেওয়া হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শামীমের ভাইয়েরা কবরটি পাকা করে দিয়েছেন। লাশ নিয়ে যেন বারবার টানাটানি না হয়, এ জন্যই তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, পুনরায় দাফনের পর যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়রাও কবরটি পাহারা দিচ্ছেন এবং খবরটি পাকা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবিত অবস্থায় শামিম তাঁর প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে মৃত্যুর পর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে গত ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শামিমের দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প

রদিন ১২ এপ্রিল তাঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় শামিমের বড় ভাইয়ের করা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত চার আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। প্রায় পাঁচ মাস পর কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর