বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বড় কোনো স্থাপনা নির্মাণের চেয়ে মানুষের সেবা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন অধ্যাপক ডা. এস আর খান। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহিমের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ‘সেবা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতি ও মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অধ্যাপক ডা. এস আর খান বলেছেন, মানবসেবাই আসল ব্রত। চিকিৎসাসহ যেকোনো সেবামূলক কাজ মানবসেবার মানসিকতা নিয়ে করতে হবে। বৈষয়িক সুবিধা বা আধুনিক সরঞ্জামের মোহে নয়, মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।
বড় কোনো স্থাপনা নির্মাণের চেয়ে মানুষের সেবা করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনিষ্ঠ জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জীবনে মানুষ যা-ই করুক না কেন, সবকিছুর হিসাব আল্লাহর কাছে থাকবে এবং সে অনুযায়ী প্রতিদান পাওয়া যাবে। দুনিয়াবি সফলতার চেয়ে পরকালের মুক্তি ও জান্নাত লাভই প্রকৃত কৃতার্থতা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান।
কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার উল্লেখ করেন, ডায়াবেটিক সমিতি মূলত একটি সচেতনতামূলক আন্দোলন, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের মানুষের ভাত খাওয়ার প্রবণতা বিশ্বমানের তুলনায় অনেক বেশি। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে সচেতন না হলে স্বাভাবিকভাবেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, যাদের ইতোমধ্যে ডায়াবেটিস রয়েছে, তারা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনি, ফুসফুস ও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, ডায়াবেটিস শুধু একটি রোগ নয়,এটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
আমাদের দেশের মানুষের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয়, শরীর সুস্থ থাকে এবং ঘুমও ভালো হয়। তিনি সবাইকে নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশফিকুর রহমান টরলিন স্বাগত বক্তব্য দেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ম্যাস কমিউনিকেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু নাসের রাজীব। সভাপতির বক্তব্যে মতিউর রহমান লাল্টু উল্লেখ করেন, গ্রামাঞ্চলে ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতনতা কম থাকায় সাধারণ আঘাতও পরবর্তীতে মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
অতিরিক্ত ভাত খাওয়া ও ফাস্টফুডের প্রতি আসক্তি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং চোখ ও কিডনি অকেজো হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তিনি জানান, কুষ্টিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতালের সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঢাকার মিরপুরে বিআইএইচএসের পাশে ৮ হাজার বর্গফুটের একটি পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক হাসপাতাল চালুর কাজ চলছে।
এছাড়া ডা. রাশিদ ডায়াবেটিস হাসপাতালের মাধ্যমে গরিব ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ইনসুলিন দেওয়া হচ্ছে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আলোচনা সভা শেষে জাতীয় অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহিমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন অধ্যাপক ডা. এস আর খান।








