কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ইবিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির মাধ্যমে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন শীর্ষক সেমিনার

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘নিরাপদ হোক রক্তদান, আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তিমার উদ্যোগে ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির মাধ্যমে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনের ১০২ নং কক্ষে এ সেমিনার এবং নবীনবরণ সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ ও প্রবীণ সদস্যদের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

রক্তিমার সভাপতি সোহরাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সদস্য আল মামুন ও হিতুআরা খাতুনের যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান এবং অধ্যাপক ড. আসাদ-উদ-দৌলা।

সেমিনারের কী-নোট স্পিকার ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান বলেন, যে কয়টা মৌলিক চাহিদার মধ্যে প্রথমেই বলা আছে অন্ন বা খাদ্যের কথা। দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য আমাদের খাদ্যের প্রয়োজন। সংক্ষেপে বলতে গেলে জীবনের প্রধান চাহিদাই হলো খাবার। তরুণ বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল ধারণা থেকে সকালের নাস্তা বাদ দেওয়ার, জাঙ্ক ফুড বা ফাস্ট ফুডকে প্রাধান্য দেওয়া এবং পানি কম খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলে। কম বাজেটের মধ্যে কীভাবে স্বাস্থ্যকর ডায়েট পাওয়া যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম কীভাবে বুস্ট করা যায় এবং মাসল বিল্ডিং করা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।

অপর কী-নোট স্পিকার অধ্যাপক ড. আসাদ-উদ-দৌলা বলেন, খাদ্য শুধু ক্ষুধা নিবারণের বিষয় নয়; একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ বয়সে শরীরের বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের প্রতিদিনের খাবারে শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও পর্যাপ্ত পানি—সবকিছুর সঠিক সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

তরুণদের মধ্যে ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবারের প্রতি যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২২৫০ ক্যালোরি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অথচ সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থী গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। হলের খাবার ও স্ট্রিট ভেন্ডরগুলোর মান শতভাগ সঠিক না হলেও, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ ও অতিরিক্ত রাত জাগা শরীরের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি আরও বলেন, নারী ও পুরুষের শারীরিক গঠন ও চাহিদায় ভিন্নতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে মাতৃত্বের কথা বিবেচনায় রেখে নারীদের শারীরিক সক্ষমতা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭০ বছর হলেও, পড়ালেখা ও অন্য ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে মানুষ নিজের একক নিয়ন্ত্রণে মূলত প্রায় ২০ বছর জীবনযাপন করার সুযোগ পায়। তাই সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কার্যকর করতে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে আয়োজক সংগঠনটিকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর