কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় দুই নারীর যাবজ্জীবন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় কামিনী খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় কামিনী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে সাজা পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় রহিমা বেগম নামের আরও এক নারীকে পৃথক ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বারবার আটক, আবারও মাদকের কারবার? 

কামিনী খাতুন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চৌড়হাস ফুলতলা এলাকার আজাদুর রহমানের স্ত্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ আটক হওয়ার কথা স্থানীয়ভাবে জানা গেলেও প্রতিবারই জামিনে বের হয়ে তিনি আবার মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, জামিনে বের হওয়ার পর কামিনী আগের চেয়ে আরও বড় পরিসরে ফেনসিডিলের কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা আরও স্পষ্ট হবে। ১১০ বোতল ফেনসিডিল ও ইয়াবা উদ্ধার : মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে চৌড়হাস ফুলতলা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ সময় কামিনী খাতুন ও রহিমা বেগমের বাড়ি থেকে ১১০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল ও ১০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আটক করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

‘অদৃশ্য শক্তির’ অভিযোগ : কামিনী খাতুনের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক কারবার পরিচালনার অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর কথিত প্রভাব নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, কামিনীর কথিত আস্তানায় বিভিন্ন প্রভাবশালী ও বড় মাদক কারবারির যাতায়াত রয়েছে। এসব সূত্র আরও দাবি করে, তাঁর পেছনে কোনো শক্তিশালী মহলের মদদ থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কামিনী পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, একাধিকবার মাদকসহ আটকের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি বারবার জামিনে বের হয়ে একই কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন? তাঁর সঙ্গে মাদক কারবারে জড়িত অন্যরা কারা, অর্থের উৎস কোথায় এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাঁকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। যাবজ্জীবন, তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে : সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, আদালত যাবজ্জীবন সাজা দিলেও রায়ের দিন পর্যন্ত কামিনী খাতুন পলাতক।

আদালত দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে সাজা পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু কামিনীকে গ্রেফতার করাই নয়, তাঁর কথিত মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। মাদক কারবারের পেছনে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে শুধু একজনকে সাজা দিয়ে এ ধরনের কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। এখন দেখার বিষয়, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কামিনী খাতুনকে কবে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁর কথিত মাদক নেটওয়ার্কের আড়ালে থাকা ব্যক্তিদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয়।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর