ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬’ আবাসিক হলে সহপাঠী ও রুমমেটদের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি তুলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগে এক ছাত্রীকে আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোবাউল জান্নাতী ঐশী।
গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী। হল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গত ১৬ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে ১৭ আগস্ট হল বডির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা-মাও উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সভায় দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথমটি হলো—অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তোবাউল জান্নাতী ঐশীকে জুলাই ৩৬ হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঘটনার ভুক্তভোগী ছাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব ঐশীর বাবা-মা গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত নিশ্চয়তা দেন ঐশীর বাবা-মা। এ জন্য তারা মেয়েসহ একটি বন্ডে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানিয়েছেন হল প্রভোস্ট। এর আগে ঐশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি হলে অবস্থানরত কয়েকজন সহপাঠী ও রুমমেটের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই ধারণ করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আবিদ নামে এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। ওই ব্যক্তি ঐশীর প্রেমিক বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি ঐশীর সঙ্গে আবিদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি ওই ছবিগুলোর কিছু অংশ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আবাসিক হলজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত ৭ আগস্ট বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। খবর পেয়ে হল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে জরুরি সভা করে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হল কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই ঐশীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর হল বডির সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া ধারণ ও অন্যের কাছে পাঠানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে হল কর্তৃপক্ষ।









