খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ২:১ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস ছিল গতকাল ২২ শ্রাবণ। দিনটি উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে সীমিত পরিসরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে জন্মবার্ষিকীর মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে প্রয়াণ দিবস পালনের দাবি জানিয়েছেন রবীন্দ্রপ্রেমী ও সংস্কৃতিসেবীরা। প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে সীমিত পরিসরে কবিকে স্মরণ করা হয়। গতকাল বেলা ১১টায় কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং গীতাঞ্জলি মিলনায়তনে সীমিত পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিল্পীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। কবির সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এমন আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন উপস্থিত বক্তারা। তবে সংস্কৃতিপ্রেমী ও কবি ভক্তদের দাবি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর আদলে প্রয়াণ দিবসও যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হোক।
কুঠিবাড়িতে বেড়াতে আসা দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকীতে যেভাবে তিন দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, ঠিক সেভাবেই প্রয়াণ দিবসেও আয়োজন করার দরকার ছিল। এভাবে একজন বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস সীমিত পরিসরে আয়োজন করা ঠিক হয়নি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সরোয়ার। তিনি জানান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শিলইদহের কুঠিবাড়িতে দিনব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। প্রতিবার যেভাবে অনুষ্ঠান পরিচালিত হয় এবারও এইভাবেই পরিচালিত হবে। শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমীন জানান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে কবির স্মৃতিবিজড়িত রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছরই কবির প্রয়াণ দিবসে এখানে কবিকে স্মরণ করে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা তারই প্রয়াণ দিবসকে স্মরণ করছি। আমরা এই অনুষ্ঠানকে সাজিয়েছি-কবিগুরুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছি।
এখানে একটি ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে কবির রচিত বিভিন্ন গান ও নৃত্য পরিবেশনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, এখানে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে সেটি ছোট পরিসরে। সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়ার জনগণের দাবি, বিশেষ করে রবীন্দ্রপ্রেমীদের দাবি- কবির জন্মবার্ষিকীর মতই প্রয়াণ দিবসেও জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন করা হোক। এ বিষয়ে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন এই বিষয়টি বিবেচনা করে ভবিষ্যতে যাতে আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা যায় সেই বিষয়টি তারা দেখবেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য