কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দুর্নীতির ভারে ন্যুব্জ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

জনবল সংকটে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘ ১৫ বছরের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগের ভার নিয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে পারেনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলেও জনবল সংকট, যন্ত্রপাতি হস্তান্তরে জটিলতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর অভাবে হাসপাতালের অধিকাংশ বিভাগ এখনো বন্ধ রয়েছে। ফলে অল্প কয়েকটি বিভাগ দিয়েই বিপুল রোগীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই হাজার জনবলের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সীমিত জনবল দিয়ে ২৩টি বিভাগের মধ্যে চালু করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ছয়টি বিভাগ। অথচ প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

বর্তমানে চালু থাকা বিভাগগুলোতেই ভর্তি রয়েছেন প্রায় ৬০০ রোগী, যেখানে হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা ৫০০। একই সঙ্গে বহির্বিভাগেও প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৬০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। সীমিত জনবল ও অব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসক ও কর্মচারীদেরও চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের জন্য কেনা অনেক যন্ত্রপাতির দাম বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দেখানো হয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি এখনো ব্যবহার উপযোগী নয়। এমনকি কোনো ব্র্যান্ডের পরিচয়বিহীন কম্পিউটার সরবরাহের ঘটনাও সামনে এসেছে। এতে আধুনিক চিকিৎসাসেবা চালুর ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে আলট্রাসনোগ্রাফি, এক্স-রে ও ইসিজি পরীক্ষা চালু থাকলেও এখনো শুরু হয়নি সিটিস্ক্যান ও এমআরআই’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের অতিরিক্ত খরচে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই পরিকল্পনাহীনতা, দুর্নীতি ও ধীরগতির কারণে হাসপাতালটি আজও পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। দ্রুত জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি হস্তান্তর এবং সব বিভাগ চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে কিছু সমস্যা ও সংকট রয়েছে। তবে সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। জনবল ও বাজেট সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই যন্ত্রপাতি হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরীক্ষা চালু করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, কুষ্টিয়া অঞ্চলের লাখো মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা হয়ে উঠতে হলে দ্রুত হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর