খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুন ২০২৬, ৩:২০ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে পদ্মার লুটের বালু মজুত করেছেন বিএনপি নেতারা। দেশের অন্যতম বৃহৎ গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প ও তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় অবৈধ এ বালু বিশাল বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ভেড়ামারায় জিকে সেচ প্রকল্পের ক্যানেলের তীরে এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ বালুর বিশাল বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক। এতে জিকে প্রকল্পের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হবে। সরেজমিন দেখা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের ক্যানালের তীর ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে বিশাল বিশাল বালুর স্তূপ। পদ্মার পুরাতন ফেরিঘাট পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু ড্রাম ট্রাকে এনে সেচ প্রকল্পের জায়গায় মজুত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বালুর পাহাড় তৈরি হয়েছে। অথচ ওই স্থানের চারপাশে রয়েছে একাধিক সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পূর্ব পাশে দেশের অন্যতম বৃহৎ গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের ক্যানেল। পশ্চিম পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দপ্তর ও তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। উত্তরে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক ও দক্ষিণে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ পাম্প।
এসব বালু বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করা হচ্ছে। ভেড়ামারা পাম্প স্টেশন ও যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, কয়েক মাস ধরে সেচ পাম্পের পাশে পাউবো’র জায়গায় বালু ফেলতে থাকেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে বালুর বড় বড় স্তূপ জমা হয়। এতে শুধু সেচ ক্যানেলের ঝুঁকিই নয়, অফিসের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। এই কর্মকর্তা আরও জানান, ওই রাস্তা দিয়ে অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী যাতায়াত করেন এবং সেখানে পিডিবির একটি হাইস্কুল রয়েছে। অফিসের অভ্যন্তরীণ ওই রাস্তা দিয়ে সব সময় বালুর বড় বড় ড্রাম ট্রাক যাতায়াত করে।
বিষয়টি আমরা কুষ্টিয়া পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পদ্মা নদীর বালুখেকো হিসাবে পরিচিত বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহুরুল ইসলাম বিজলি মালিথা ও বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা ভুই বাবু অবৈধ বালু উত্তোলনের মূলহোতা। তাদের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ পদ্মার অবৈধ বালুর রাজত্ব করছেন। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে।
কয়েকদিন পরে নদীতে পানি চলে আসবে, এজন্য আগেই বালু উত্তোলন করে সরকারি ওই জায়গায় কয়েক লাখ ঘন মিটার বালু মজুত করা হয়েছে। এসব বালু পরে বিক্রি করা হবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলাম বিজলি মালিথা বলেন, আমি নিজেও ওই এলাকায় বালু মজুত করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছি। ৫০ জনের বেশি ব্যক্তি ওই জায়গায় বালু রাখছে, অথচ নাম হচ্ছে আমার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনেই এই কর্মকাণ্ড চলছে। প্রকাশ্যে দিনের বেলায় ট্রাকে করে বালু ফেলা হচ্ছে।
কারা এখানে বালু মজুত করেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সবই জানেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বালু সিন্ডিকেট চক্র। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে কোনোভাবেই বালু মজুত করা যাবে না। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তিনি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য