গ্রুপিংয়ের উত্তাপে দৌলতপুর
দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে রাজনৈতিক গ্রুপিং, স্থানীয় আধিপত্য ও বিভিন্ন পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও হতাহতের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে স্থানীয় আধিপত্য এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগও সামনে এসেছে।
সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তসংলগ্ন চড়ুইকুড়ি (মরার চর) এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা ওরফে টেঙ্গর (৬০) নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে, ওই এলাকায় মাদক ও চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহারের খবরও পাওয়া যায়।
এর আগে সেপ্টেম্বরেও দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ৫ সেপ্টেম্বর জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণে অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক গ্রুপিং, ব্যক্তিগত আধিপত্যের দ্বন্দ্ব এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রভাব একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—রাজনৈতিক বিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্বের প্রভাব কি এখন জননিরাপত্তার ওপর পড়ছে? সংঘাত নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, অপরাধ দমনে জনগণের সর্বোচ্চ সহযোগিতা একান্ত কাম্য। অপরাধী যে দলেরই হোক, আইন আইনের গতিতে চলে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। অভিযান অব্যাহত আছে, অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। রাজনৈতিক বিরোধ যেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও স্থানীয় গ্রুপিংকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও তা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জননিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক পক্ষের বিষয় নয়। এটি সবার অধিকার। সংঘর্ষ ও অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে আইন প্রয়োগ এবং সংঘাতের আগেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই দৌলতপুরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।









